স্বাধীনতার সূচনাপর্বে পুলিশের অবদানের কথা স্মরণ করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্বাধীনতার সূচনালগ্নে রাজারবাগের ভূমিকা বিশেষভাবে তুলে ধরেন।

মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের ভয়াল রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলার মুখে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে ওঠে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে। এখানকার রক্তাক্ত ঘটনাই পরবর্তীতে স্বাধীনতার আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলে এবং মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সেই সময়কার পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে চট্টগ্রামে বিদ্রোহের ডাক আসে এবং পরবর্তীতে স্বাধীনতার ঘোষণা বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলোকেই তিনি দেশের স্বাধীনতার বাস্তব ইতিহাস হিসেবে অভিহিত করেন।

শহিদ পুলিশ সদস্যদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের অবদান জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। দেশের স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে তাদের সাহসিকতা এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

এর আগে সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে তিনিও সেখানে শ্রদ্ধা জানান। পরে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাজারবাগে আসেন।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দীর্ঘ বিরতির পর আবার কুচকাওয়াজ আয়োজনের বিষয়টি ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক ধারা আরও শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং শহিদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক অনুরোধ ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে এবং চুক্তি অনুযায়ী তাদের প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ বাহিনীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নত দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এ বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।