
নরসিংদীর ১০০ শয্যার জেলা হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণ দীর্ঘসূত্রতায় আটকে আছে বছরের পর বছর। জায়গার সংকটে রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে, তবুও পুরো কাজ শেষ না করেই ভবনটি গ্রহণের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চাপ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১০০ শয্যার এই হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার লক্ষ্যে নতুন ভবন নির্মাণ শুরু হলেও এখনো তা সম্পূর্ণ হয়নি। রোববার হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এ এন এম মিজানুর রহমান জানান, নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় ভবনটি বুঝে নেওয়া সম্ভব নয়। কাজের প্রকৃত অগ্রগতি যাচাই করতে ইতোমধ্যে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে কাজ এখনো চলমান।
অন্যদিকে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএন হুদা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড দাবি করেছে, তারা অনেক আগেই তাদের দায়িত্ব শেষ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক কামাল উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালেই তারা কাজ শেষ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভবনটি হস্তান্তর করেছে। বর্তমানে যে কাজ চলছে, তা অন্য কোনো ঠিকাদারের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের স্থানীয় নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম মুসা ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তার মতে, ভবনের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখনো রং করা, প্লাস্টারিংয়ের কিছু অংশ এবং লিফট স্থাপনের কাজ বাকি রয়েছে। এছাড়া ডায়ালাইসিস ইউনিটের নির্মাণকাজ অন্য একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চলমান রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আটতলা ভবনের বিভিন্ন অংশে এখনো নির্মাণকাজ চলছে। নিচতলায় লিফট বসানোর জায়গা তৈরি থাকলেও যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়নি। ভবনের ওপরের দিকে ডায়ালাইসিস সেন্টারের কাজ এগোচ্ছে—ইটের গাঁথুনি প্রায় শেষ, চলছে প্লাস্টার ও টাইলস বসানোর কাজ।
নির্মাণশ্রমিক আমিরুল ইসলাম জানান, তিনি প্রায় এক মাস ধরে ডায়ালাইসিস ইউনিটে কাজ করছেন। তার মতে, ইটের কাজ শেষ হয়েছে, বর্তমানে প্লাস্টার চলছে। এরপর টাইলস বসানো এবং রং করার কাজ সম্পন্ন হলে পুরো অংশটি প্রস্তুত হবে। তিনি আশা করেন, সব কিছু ঠিক থাকলে এক মাসের মধ্যেই এই অংশের কাজ শেষ করা সম্ভব।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে প্রায় ৪০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ১৩ তলা ফাউন্ডেশনের ওপর নির্মিত ভবনটিতে জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, অপারেশন থিয়েটার, আইসিইউ, বিভিন্ন ওয়ার্ড, প্রশাসনিক দপ্তর এবং একটি আধুনিক ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে দীর্ঘ সময়েও প্রকল্প শেষ না হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। হাসপাতালের সীমিত পরিসরে সব ধরনের চিকিৎসা সেবা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় অনেক রোগীকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ—দুটোরই চাপ বাড়ছে রোগী ও তাদের স্বজনদের ওপর।
এ অবস্থায় দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা। তাদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে শুধু নরসিংদী নয়, আশপাশের জেলার মানুষের জন্যও উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত হবে।
