স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় টিকে থাকতে হলে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।
আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিল্পমন্ত্রী জানান, দেশের শিল্প খাতকে এগিয়ে নিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য সহজ শর্তে অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। এ লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশনকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে স্বল্পমূল্যের জ্বালানি রপ্তানিমুখী শিল্প বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রেখেছিল। তবে বর্তমানে জ্বালানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
তিনি আরও বলেন, এলডিসি উত্তরণের ফলে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত স্বল্পসুদে ঋণের সুযোগ ধীরে ধীরে কমে আসছে। তাই অর্থনীতিকে টেকসই রাখতে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা অত্যন্ত প্রয়োজন। প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক নতুন কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের কর্মসংস্থানের জন্য ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা অপরিহার্য।
প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার বিষয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের লজিস্টিক ব্যয় বর্তমানে জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ, যা বৈশ্বিক গড় ১০ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি। এই ব্যবধান কমানো না গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকা কঠিন হবে।
অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, উদ্যোক্তাদের সহায়তার মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
চুক্তির আওতায় এসএমই ফাউন্ডেশন মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ৪০০ কোটির বেশি ঋণ সহায়তা দেবে। এর মধ্যে রিভলভিং ফান্ড থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বিতরণ করা হবে। উদ্যোক্তারা ন্যূনতম ১ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন, যার সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ শতাংশ।
এছাড়া জাইকার সহায়তায় বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল)-এর সঙ্গে আরেকটি চুক্তির আওতায় কৃষিভিত্তিক ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের ১২৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সুদের হার হবে ৯ শতাংশ এবং একজন উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন।
এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে একাধিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরসহ সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
