ঢাকা থেকে সরাসরি ফ্লাইট চালুর আগ্রহ রিয়াদ এয়ারের, দ্বিপাক্ষিক বিমান সহযোগিতা বাড়াতে আলোচনা

ঢাকা: বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সৌদি আরবের নতুন এয়ারলাইন্স রিয়াদ এয়ার বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বৈঠকে ঢাকাসহ সিলেট ও চট্টগ্রাম থেকেও সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

রাজধানীর সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফর এইচ.বিন আবিয়াজ বোসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাতে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতকে আরও আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব করার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।

বৈঠকে বাংলাদেশ পক্ষ থেকে সৌদি আরবগামী যাত্রীদের সেবার মান উন্নয়ন, ফ্লাইট সময়সূচি আরও নিয়মিত করা এবং যাত্রীসেবায় প্রযুক্তিগত উন্নয়ন বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। মন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিপুল সংখ্যক যাত্রী যাতায়াত করে থাকেন, তাই সেবার মান উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।

অন্যদিকে সৌদি রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করতে আগ্রহী এবং যাত্রীসেবা উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

বৈঠকে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল নতুন সৌদি এয়ারলাইন্স Riyadh Air-এর বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করার সম্ভাবনা। রাষ্ট্রদূত জানান, প্রতিষ্ঠানটি ঢাকায় স্টেশন স্থাপন এবং ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করার বিষয়ে আগ্রহী। প্রাথমিকভাবে ঢাকা রুটকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর—বিশেষ করে সিলেট ও চট্টগ্রাম—থেকেও ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে।

বাংলাদেশ পক্ষ থেকে এ প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে দেখা হয়েছে বলে জানা গেছে। মন্ত্রী এ সময় বলেন, বাংলাদেশ একটি দ্রুত বর্ধনশীল বিমান বাজার, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে যাত্রী চলাচল অত্যন্ত বেশি। তাই নতুন এয়ারলাইন্স যুক্ত হলে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং যাত্রীসেবার মান উন্নত হবে।

আলোচনায় আরও উঠে আসে পর্যটন খাতের সম্ভাবনা। দুই দেশ যৌথভাবে পর্যটন উন্নয়ন, হজ ও ওমরাহ যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বিমান ভাড়া ও সেবার মান নিয়ন্ত্রণে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে মতবিনিময় করে।

প্রতিমন্ত্রী বৈঠকে বলেন, ঢাকার পাশাপাশি সিলেট ও চট্টগ্রাম থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সম্প্রসারণ হলে আঞ্চলিক যাত্রীদের সুবিধা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং বিমানবন্দরগুলোর সক্ষমতা আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাবে।

রাষ্ট্রদূত এ সময় আশ্বস্ত করেন যে, সৌদি আরব বাংলাদেশের সঙ্গে আকাশপথে সহযোগিতা আরও গভীর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের বিমান যোগাযোগ শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, বাণিজ্য ও পর্যটনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করে যে, আলোচনার মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে এবং শিগগিরই বাস্তব অগ্রগতি দেখা যাবে। বিশেষ করে রিয়াদ এয়ার-এর বাংলাদেশে ফ্লাইট চালু হলে আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।