শিবির নেতাদের গুলির মামলা: মানবতাবিরোধী নয় দাবি, আদেশ ২০ এপ্রিল

যশোরের চৌগাছায় গ্রেপ্তারের পর কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা’ সাজিয়ে ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গুলি করার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আসামিপক্ষ দাবি করেছে, ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অপরাধের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্তের জন্য আগামী ২০ এপ্রিল দিন নির্ধারণ করেছে ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিষয়টি শুনানির জন্য ওঠে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চে মামলাটি পরিচালিত হয়। বেঞ্চের অপর সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।

শুনানিতে আসামিদের পক্ষে আইনজীবীরা অব্যাহতির আবেদন জানিয়ে বলেন, যশোরের চৌগাছায় সংঘটিত ঘটনাটি কোনো বৃহৎ পরিসরের পরিকল্পিত বা ধারাবাহিক আক্রমণের অংশ নয়। তাদের মতে, এটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত বিস্তৃত বা সংগঠিত হামলা হিসেবে গণ্য হওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি করে না। তাই এটিকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই এবং ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্তও নয় বলে তারা যুক্তি উপস্থাপন করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী লিটন আহমেদ শুনানিতে বলেন, ঘটনাটি কোনো ‘ওয়াইড স্প্রেড’ বা ‘সিস্টেমেটিক অ্যাটাক’-এর মধ্যে পড়ে না। একই সঙ্গে এটি বেসামরিক জনগণের ওপর পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত বিস্তৃত হামলা হিসেবেও প্রমাণিত নয় বলে দাবি করেন তিনি। এসব কারণে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতায় না পড়ার কথা তুলে ধরে আসামিদের অব্যাহতির আবেদন জানানো হয়।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী শুনানিতে বলেন, দীর্ঘ সময়জুড়ে সংঘটিত একাধিক ঘটনার ধারাবাহিকতায় নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার একটি প্যাটার্ন বিদ্যমান ছিল। তিনি যুক্তি দেন, বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন ঘটনায় একই ধরনের কৌশল অনুসরণ করা হয়েছে, যা সংগঠিত ও পরিকল্পিত আক্রমণের ইঙ্গিত দেয়। তার মতে, চৌগাছার ঘটনাটিও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ২০ এপ্রিল দিন ধার্য করে।

এর আগে গত ১২ এপ্রিল মামলাটির আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ গঠনের আবেদন জানায়। অভিযোগে বলা হয়, ২০১৬ সালে যশোরের চৌগাছা উপজেলায় ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে পায়ে গুলি করা হয়। পরবর্তীতে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার সময় তাদের ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে দেওয়া হয় এবং গামছা দিয়ে বাঁধা হয়। এতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে এবং গুরুতর শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়, যার ফলে এক পর্যায়ে তাদের পা কেটে ফেলতে হয়।

ঘটনার সময় মামলার কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। হাজির করা ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন চৌগাছা থানার উপপরিদর্শক আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান এবং কনস্টেবল জহরুল হক।

এ ছাড়া মামলার কয়েকজন আসামি পলাতক রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন যশোরের তৎকালীন পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, চৌগাছা থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল এবং এসআই মাজেদুল।

এর আগে ১ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে এবং তিনজনকে হাজিরের নির্দেশ দেয়।