সাক্ষী জবানবন্দিতে ‘চাপ’ নয়—স্বাধীনভাবে বক্তব্যের অনুরোধ জানালেন পলক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীর জবানবন্দি দেওয়ার সময় তাকে কোনো ধরনের জোর বা চাপ প্রয়োগ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় অভিযুক্ত সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি আদালতের কাছে দাবি করেন, সাক্ষী যেন স্বাভাবিক ও স্বাধীনভাবে বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এ ঘটনা ঘটে। ওই দিন জুলাই আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছিল।

মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক অভিযুক্ত। ওই দিনের শুনানিতে চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) একজন কর্মকর্তা জবানবন্দি দেন, যাঁর পরিচয় প্রকাশে রাষ্ট্রপক্ষ গোপনীয়তা বজায় রাখে।

জবানবন্দি চলাকালীন আসামিপক্ষের আইনজীবী লিটন আহমেদ কিছু বিষয়ে আপত্তি তোলেন। এ সময় কাঠগড়ায় থাকা পলকও দাঁড়িয়ে ট্রাইব্যুনালের অনুমতি চেয়ে বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ জানান।

এরপর তিনি সাক্ষীর উদ্দেশে বলেন, সাক্ষী অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে বক্তব্য দিচ্ছেন এবং প্রযুক্তিগত কিছু শব্দ ব্যবহার করছেন। তবে তার ভাষ্য অনুযায়ী, চিফ প্রসিকিউটরের পক্ষ থেকে জোরপূর্বক বা কৌশলগতভাবে কিছু শব্দ বের করার চেষ্টা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। এ কারণে সাক্ষীকে কোনো ধরনের চাপ ছাড়াই স্বাধীনভাবে জবানবন্দি দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

পলকের বক্তব্যের পর ট্রাইব্যুনাল তাকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনার পক্ষে কথা বলার জন্য আইনজীবী রয়েছেন, তাদের ওপর আস্থা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ওই মামলায় পলক বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন এবং তাকে সেদিন আদালতে হাজির করা হয়। অপর আসামি সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক বলে জানানো হয়েছে।

এর আগে একই মামলায় গত ১২ এপ্রিল তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ইমদাদুল হক মোল্লা জবানবন্দি দেন। আর ৪ মার্চ প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন মামলার বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা।

রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামসহ প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, মঈনুল করিম, সুলতান মাহমুদ এবং অন্যান্য আইনজীবীরা।