জুলাই আন্দোলনের সময় দেশের বিভিন্ন থানা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্থাপনা থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে জারি করা রুলে একাধিক মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালত জানতে চেয়েছে, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কতটা অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
রুলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং র্যাবের মহাপরিচালককে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে রিট আবেদনকারী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহমুদুল হাসান আদালতে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী। শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করে বিষয়টি অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত দেয়।
আইনজীবী মাহমুদুল হাসান জানান, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে দেশের বিভিন্ন থানাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দপ্তর থেকে প্রায় ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯ রাউন্ড গুলি লুট হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। তার মতে, এসব অস্ত্রের বড় একটি অংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, যা জননিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ।
তিনি আরও বলেন, অস্ত্র উদ্ধারে সরকারের পক্ষ থেকে পুরস্কার ঘোষণা করা হলেও বাস্তব অগ্রগতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয়।
এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের ওই আইনজীবী এ বিষয়ে একটি জনস্বার্থমূলক রিট দায়ের করেন। রিটে উল্লেখ করা হয়, অস্ত্র উদ্ধারে যথাযথ উদ্যোগ না থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে। এরপর ১৪ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাছে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলেও সন্তোষজনক পদক্ষেপ না আসায় শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টে রিট করা হয়।
