যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি, দেশে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম এবং বাংলাদেশে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আলোচনার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি জানান, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক উদ্যোগের অগ্রগতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম, যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল ও গ্যাস আমদানির প্রক্রিয়া এবং এসব উদ্যোগের বর্তমান অবস্থা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের বাজারে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও কার্যক্রম সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
তবে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি’ নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেননি অর্থমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ আলোচনার পর গত ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ‘পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। কেউ কেউ এটিকে দেশের স্বার্থবিরোধী বলে অভিহিত করে তা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে সম্প্রতি জোরপূর্বক শ্রম কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতার অভিযোগে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন।
এ বিষয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপিত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ, কানাডা, ইকুয়েডর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান এবং যুক্তরাজ্য থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া আরও ৪৫টি দেশের পণ্যের ওপর সাড়ে ১২ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রম নিয়ন্ত্রণে যথাযথ অগ্রগতি দেখাতে পারেনি, যা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক স্বার্থের জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ের কারণে এ ধরনের উদ্যোগ স্থগিত হয়ে গেলেও নতুন প্রস্তাবের মাধ্যমে প্রশাসন আবারও পাল্টা শুল্কব্যবস্থা কার্যকর করার চেষ্টা করছে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতের জন্য একটি বিশেষ সুবিধা চালুর প্রস্তাব দিয়েছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ বস্ত্র ও পোশাকপণ্য তুলনামূলক কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। তবে এ সুবিধার আওতায় কত শুল্ক প্রযোজ্য হবে এবং কী পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করা যাবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
