সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত, বিচার প্রশাসনে জটিলতা এড়ানোর কথা বললেন অ্যাটর্নি জেনারেল

সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদসংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত হওয়ায় বিচার প্রশাসনে সম্ভাব্য জটিলতা ও অচলাবস্থা এড়ানো গেছে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেন, রায়টি কার্যকর থাকলে বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা ছিল।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট–এর আপিল বিভাগ সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন সচিবালয় গঠনের বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের করা আপিলের শুনানির জন্য আগামী ১৬ জুন দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী–এর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এর আগে গত বছর হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে রায় দিয়েছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে সচিবালয় গঠনের উদ্যোগ নিলেও পরে তা বাতিল করা হয়।

আদেশের পর নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, হাইকোর্টের রায় কার্যকর থাকলে বিচার প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারত। আদালতে তিনি যুক্তি উপস্থাপন করেছিলেন যে, রায়টি স্থগিত না হলে বিচার প্রশাসনে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি জানান, আপিল বিভাগের আদেশের ফলে ২০১৭ সালের বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী বিচারকদের পদায়ন ও পদোন্নতি কার্যক্রম আগের নিয়মেই চলবে। তার ভাষ্য, সুপ্রিম কোর্টের জন্য যে স্বতন্ত্র সচিবালয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, তা সংসদে পাস হয়ে আইনে পরিণত হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে আরও বিচারিক পর্যালোচনা প্রয়োজন।

সংবিধানে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয়ের কোনো বিধান রয়েছে কি না, সে প্রশ্নও উত্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, সংবিধানের ৭৯ অনুচ্ছেদে সংসদ সচিবালয়ের স্বতন্ত্র অবস্থানের কথা বলা হলেও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিষয়ে স্পষ্ট কোনো উল্লেখ নেই। আদালত সংবিধানে অনুল্লেখিত কোনো বিষয় রায়ের মাধ্যমে যুক্ত করতে পারেন কি না, সেটিও আপিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চতুর্থ সংশোধনীর সময় অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতির ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্ট থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে ন্যস্ত করা হয়েছিল। পরে পঞ্চদশ সংশোধনীতেও সেই কাঠামো বহাল রাখা হয়।

শুনানিতে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে বিচারপতিদের নিরপেক্ষতা ও পেশাগত নৈতিকতার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব রয়েছে এবং শুধুমাত্র কোনো মামলার সঙ্গে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা থাকলেই পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলা সমীচীন নয়।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি অতীতের বিভিন্ন ঘটনার সমালোচনা করে বলেন, একসময় নিম্ন আদালতের বিচারকদের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ছিল। তবে বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার সদিচ্ছার কোনো ঘাটতি তিনি দেখছেন না বলেও মন্তব্য করেন।

অ্যাটর্নি জেনারেলের মতে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে ভারসাম্য এবং সাংবিধানিক কাঠামোর প্রশ্নগুলোই এ মামলার কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে আপিল শুনানিতে গুরুত্ব পাবে।