দীর্ঘ এক যুগ পেরিয়েও বাস্তবায়ন শেষ না হওয়া ‘খুলনা শিপইয়ার্ড রোড প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের অস্বাভাবিক বিলম্বের কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে গাফিলতি বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায় নির্ধারণ করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে মোট ৩ হাজার ৮৯০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন পায়।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৮০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। প্রকল্পগুলোর মধ্যে পাঁচটি নতুন, তিনটি সংশোধিত এবং দুটি মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী সাংবাদিকদের জানান, খুলনা শিপইয়ার্ড উন্নয়ন প্রকল্পটি ১২ বছরের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন ধাপে মেয়াদ বাড়ানো হলেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জিত হয়নি। এ কারণে বিলম্বের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন।
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) অধীনে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটি ২০১৩ সালের জুলাই মাসে একনেকের অনুমোদন পায়। সে সময় ৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে দুই বছরের মধ্যে, অর্থাৎ ২০১৫ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরুই করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে যথাক্রমে এক বছর এবং দুই বছর করে সময় বাড়িয়ে ২০১৮ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। কিন্তু সেই লক্ষ্যও অর্জিত না হওয়ায় ধাপে ধাপে সাতবার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ সপ্তম দফায় মেয়াদ ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হলেও ভৌত অগ্রগতি হয় মাত্র ৭০ শতাংশ। পরে অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে অষ্টম দফায় মেয়াদ গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
প্রকল্প-সংক্রান্ত নথিপত্রে দেখা যায়, অনুমোদনের প্রায় নয় বছর পর ২০২২ সালের ২২ জানুয়ারি প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়। এরপর সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময়ে কাজের অগ্রগতি ৭০ শতাংশে পৌঁছালেও দায়িত্বপ্রাপ্ত যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আতাউর রহমান লিমিটেড’ এবং ‘মাহাবুব ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড’ বিল উত্তোলনের পর কাজ ফেলে চলে যায়। ফলে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় গত বছরের ৭ আগস্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে কর্তৃপক্ষ।
মেয়াদ বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রকল্পের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় ২৮ কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় সংশোধনীতে আরও ১৩২ কোটি টাকা বৃদ্ধি করা হয়। ফলে প্রাথমিকভাবে ৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকার প্রকল্পটির ব্যয় বেড়ে ২৫৯ কোটি টাকায় পৌঁছে। পরে তা সামান্য কমিয়ে ২৫৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।
একনেক সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াসিন, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিভিন্ন বিভাগের সচিবরাও সভায় অংশ নেন।
