আসলাম চৌধুরীর শপথ প্রশ্নে দুই জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর মতামত নেবে আপিল বিভাগ

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরী ঋণখেলাপির অভিযোগ থাকা অবস্থায় শপথ নিতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্নের আইনি ব্যাখ্যা জানতে দুই জ্যেষ্ঠ আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

বুধবার (১০ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালত সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী ও কামরুল হক সিদ্দিকীকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ করে মামলার বিভিন্ন আইনি দিক নিয়ে মতামত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে চট্টগ্রাম-৪ আসন থেকে নির্বাচিত হন আসলাম চৌধুরী। তবে ২৩টি ব্যাংক থেকে প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি টাকার ঋণখেলাপির অভিযোগ ওঠায় তার চূড়ান্ত নির্বাচনী ফলাফল স্থগিত রাখা হয়। ফলে নির্বাচনে জয়ী হলেও এখন পর্যন্ত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করতে পারেননি তিনি।

পরবর্তীতে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ এবং শপথ গ্রহণের অনুমতি চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন আসলাম চৌধুরী। সেই আবেদনের শুনানিকালে আদালত বিষয়টির সাংবিধানিক ও আইনগত দিক বিশ্লেষণের জন্য দুই জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর মতামত গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।

আদালত আগামী ১৫ জুন মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন। ওই দিন অ্যামিকাস কিউরিদের বক্তব্য শোনার পর আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেওয়া আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, মামলাটির আংশিক শুনানি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন আদালত আইনি বিষয়গুলো আরও গভীরভাবে পর্যালোচনার জন্য দুই অভিজ্ঞ আইনজীবীর মতামত শুনতে চান।

তিনি জানান, আগামী শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরিরা তাদের পর্যবেক্ষণ ও ব্যাখ্যা উপস্থাপন করবেন। এরপরই আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে এগোবেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রাখার আদেশ দেন। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াতের প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকী এবং যমুনা ব্যাংক পৃথকভাবে লিভ টু আপিল দায়ের করে। আপিল বিভাগ সেই আবেদন গ্রহণ করলে মামলাটি চূড়ান্ত শুনানির জন্য উত্থাপিত হয়।

এই বিরোধের সূত্রপাত হয় গত ৩ জানুয়ারি, যখন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেন। পরে ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক।

গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন আপিলগুলো খারিজ করে দিলে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকে। এরপর কমিশনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক রিট দায়ের করা হয়। গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট সেই রিট খারিজ করে দিলে তার প্রার্থিতা আবারও বহাল থাকে।

পরবর্তীতে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার আদালত হয়ে বিষয়টি আপিল বিভাগে আসে। বর্তমানে মামলাটি সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচিত কোনো প্রার্থীর শপথ গ্রহণের প্রশ্নে আদালতের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অনুরূপ মামলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তাই বিষয়টির আইনি ব্যাখ্যা নিশ্চিত করতেই আপিল বিভাগ দুই জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর মতামত গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে।