সংরক্ষিত নারী এমপিদের দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে সংসদে প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যাখ্যা

সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের বিরোধী দলীয় নির্বাচনি আসনভিত্তিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তদারকির দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রশ্নের মুখে পড়েন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, বিদ্যমান নিয়ম ও সাংগঠনিক কাঠামোর আওতায় থেকেই এই দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম এ বিষয়ে একটি সম্পূরক প্রশ্ন তোলেন। তার সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

প্রশ্নে বলা হয়, বিএনপির সংরক্ষিত নারী এমপিদের বিরোধী দলীয় আসনের উন্নয়ন তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তাদের মাধ্যমে ডিও লেটার ইস্যুর বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এতে বিরোধী দলের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা চান তিনি।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের নির্দিষ্ট কোনো নির্বাচনি আসন নেই। তাই দলীয় ও সাংগঠনিক কাঠামোর ভিত্তিতে তাদের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি প্রচলিত ব্যবস্থার মধ্যেই করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি সংসদ সদস্যই তার নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখার অধিকার রাখেন। সংরক্ষিত নারী এমপিদের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য। সরকারের নিয়ম অনুযায়ীই এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনার এলাকার উন্নয়ন বিষয়ে আমার সহযোগিতা প্রয়োজন হলে জানাবেন”—এই ধরনের সমন্বয়মূলক দৃষ্টিভঙ্গিই সরকারের লক্ষ্য।

এর আগে বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে ৩৬ জন সংরক্ষিত নারী এমপিকে বিরোধী দলীয় ৭৯টি সংসদীয় আসনের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। এসব এলাকায় তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠনকে আরও সক্রিয় করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য বলে জানানো হয়।

সংসদে প্রশ্নকারী জামায়াত এমপি মীর আহমদ বিন কাসেম অভিযোগ করেন, এই দায়িত্ব বণ্টনের ফলে বিরোধী দলীয় এমপিদের এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রমে তাদের ভূমিকা সীমিত হয়ে যেতে পারে কি না, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

এদিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংরক্ষিত নারী এমপিদের মধ্যে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে ঢাকা-১২, ঢাকা-১৫ ও ঢাকা-১৬ আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যেখানে জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যরা রয়েছেন। একইভাবে শাম্মী আক্তারকে ঢাকা-১১ ও সিলেট-৫, বীথিকা বিনতে হোসাইনকে সাতক্ষীরার চারটি আসন এবং ফাহিমা নাসরিন মুন্নিকে ঝিনাইদহ-৩ ও ৪ আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-সংক্রান্ত একটি আসনে বিএনপির সংরক্ষিত এমপি নাদিয়া পাঠান পাপনকেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

সংসদে আলোচনার শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সাংবিধানিক অধিকার বজায় রেখেই উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় অব্যাহত থাকবে।