ডেথ রেফারেন্স দ্রুত নিষ্পত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষের স্পেশাল টিম, কোনো মুলতবি না চাওয়ার ঘোষণা

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলাগুলোর ডেথ রেফারেন্স ও আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে রাষ্ট্রপক্ষের তরফ থেকে আর কোনো সময় প্রার্থনা বা মুলতবি না চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এসব মামলায় কার্যকর শুনানির জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ডেথ রেফারেন্স ও সংশ্লিষ্ট আপিলগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে কোনোভাবেই সময় প্রার্থনা করবে না। তার ভাষায়, “আমাদের অফিসের পক্ষ থেকে কোনো আইন কর্মকর্তা কোনো মামলায় মুলতবি চাইবেন না। আমি নিজেও কোনো মামলায় সময় চাইব না।”

রাষ্ট্রপক্ষের এই বিশেষ টিমের নেতৃত্ব দেবেন অ্যাটর্নি জেনারেল নিজেই। টিমের সদস্য হিসেবে থাকছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওসমান চৌধুরী, মেহেদী হাসান, জামিউল হক ফয়সাল এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল দেওয়ান হুমায়ুন কবির রিপন।

অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, প্রধান বিচারপতি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে মৃত্যুদণ্ডাদেশ সংক্রান্ত রেফারেন্স ও সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি আপিল শুনানির জন্য একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আগামী ১৪ জুন থেকে এই বেঞ্চ কার্যকর হবে এবং রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিচারকাজ শুরু হবে।

তিনি আরও জানান, শিশু রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছে। দ্রুত পেপারবুক প্রস্তুত হলে এ মামলাও শিগগিরই শুনানির তালিকায় আসতে পারে।

শুনানির প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, শুক্রবার ও শনিবার ছুটির দিনেও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা মামলার নথি পর্যালোচনা করবেন এবং যুক্তি প্রস্তুত করবেন, যাতে রবিবার থেকে কার্যকরভাবে আদালতকে সহায়তা করা যায়।

সাম্প্রতিক মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বিচার প্রক্রিয়া আইনের মধ্যেই সম্পন্ন হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের আইনি অধিকার নিশ্চিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী দ্রুত বিচার পাওয়াও একটি অধিকার, আবার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, মামলাগুলোতে গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, সাক্ষ্য-জেরা সব আইনি ধাপ অনুসরণ করা হয়েছে। তাই আইন অনুযায়ী বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই।

এর আগে প্রধান বিচারপতির নির্দেশে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা হয়, যা আগামী ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করবে।