রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের জন্য বিদ্যমান সব ধরনের আয়কর অব্যাহতি বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন পার্বত্য অঞ্চল থেকে নির্বাচিত চার সংসদ সদস্য। এ বিষয়ে তারা অর্থমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।
গত রোববার পাঠানো ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিংপ্রু জেরী এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাধবী মারমা।
চিঠিতে সংসদ সদস্যরা উল্লেখ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জনগণকে জাতীয় মূলধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে আয়কর অব্যাহতির সুবিধা দেওয়া হয়ে আসছে। সম্প্রতি বাজেট অধিবেশনে এ সুবিধা সংশোধনের একটি প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে, যা কার্যকর হলে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের বেতন ও আর্থিক সম্পদ থেকে প্রাপ্ত আয় ছাড়া অন্যান্য আয় করের আওতায় চলে আসবে।
বর্তমানে ২০২৩ সালের আয়কর আইনের ষষ্ঠ তফসিলের ১৯ ধারা অনুযায়ী পার্বত্য অঞ্চলে পরিচালিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত আয়ের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সদস্যরা আয়করমুক্ত সুবিধা ভোগ করছেন।
সংসদ সদস্যরা তাদের আবেদনে বলেন, ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশ এবং ২০২৩ সালের আয়কর আইনেও এই কর অব্যাহতির বিধান সংরক্ষিত রয়েছে। আইন অনুযায়ী রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কোনো ব্যক্তি যদি ওই অঞ্চলে পরিচালিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে আয় করেন, তবে সেই আয় করমুক্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, দেশের প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে প্রায় ৯ লাখ ৮৯ হাজার ২৯৮ জন পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস করেন। তাদের অধিকাংশের জীবিকা নির্ভর করে জুমচাষ ও কৃষিকাজের ওপর। কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের ফলে এ অঞ্চলের প্রায় ৭০ শতাংশ কৃষিজমি পানির নিচে চলে যায়, যার বড় অংশের ক্ষতিগ্রস্ত ছিলেন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ।
সংসদ সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, পার্বত্য অঞ্চলে এখনো ৩৭ শতাংশ মানুষ সুপেয় পানির সুবিধার বাইরে রয়েছেন। এছাড়া ৪৫ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা এবং ৫০ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। সামগ্রিকভাবে প্রায় ৮০ শতাংশ পাহাড়ি জনগোষ্ঠী আর্থসামাজিকভাবে পিছিয়ে রয়েছে।
তারা মনে করেন, এ পরিস্থিতিতে আয়কর অব্যাহতির সুবিধা প্রত্যাহার করা হলে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে। তাই বিদ্যমান করমুক্ত সুবিধা বহাল রেখে সংশ্লিষ্ট আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এদিকে ১৮ জুন জাতীয় সংসদে রাঙামাটির সংসদ সদস্য ও সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য আয়কর অব্যাহতির সুবিধা অব্যাহত রাখার দাবি জানান।
