চীনের সহায়তায় দ্রুত শেষ হবে তিস্তা মহাপরিকল্পনার সম্ভাব্যতা সমীক্ষা: পানিসম্পদমন্ত্রী

তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করতে খুব দ্রুত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, চীনের কারিগরি সহযোগিতায় যৌথভাবে এ সমীক্ষা শেষ করে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রোববার (২৮ জুন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর শেষে সফরের বিভিন্ন দিক নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনার সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনায় চীন সম্মতি দিয়েছে। দুই দেশ যৌথভাবে এ সমীক্ষা সম্পন্ন করবে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এর কাজ শেষ হবে বলে সরকার আশাবাদী।

তিনি বলেন, তিস্তা ছাড়াও দেশের অন্যান্য নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় চীনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। চীনের সহায়তার ভিত্তিতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে এবং খুব শিগগিরই এ পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। চলতি বাজেটেই প্রকল্পের কাজ শুরুর লক্ষ্যে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠকে একাধিকবার তিস্তা প্রকল্পের বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। এছাড়া চীনের পানিসম্পদমন্ত্রীর উপস্থিতিতেও বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, তিস্তা অববাহিকার লাখো মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ দুর্ভোগের শিকার। এ অবস্থার স্থায়ী সমাধানে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। সে কারণেই প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে কারিগরি সহায়তা ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় চীন সম্মতি দিয়েছে।

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি হয়। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একাধিক চীন সফরের মাধ্যমে সেই সম্পর্ক আরও গভীর হয়। দীর্ঘদিনের পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় চীন বাংলাদেশের উন্নয়ন উদ্যোগে ইতিবাচক ভূমিকা রেখে চলেছে।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুন প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফর শেষে চার দিনের সফরে চীন যান। সফরের প্রথম দুই দিন তিনি ডালিয়ানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নেন। পরে বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং, পানিসম্পদমন্ত্রী এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বেসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রধানমন্ত্রীর কয়েকজন উপদেষ্টা সফরে অংশ নেন।