দেশের পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও পরিচিত করে তুলতে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস সারা দেশের সব জেলায় একযোগে উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। এ উপলক্ষে দেশীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরে বর্ণাঢ্য কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এবার বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি ও বিস্তারিত কর্মসূচি প্রণয়নের লক্ষ্যে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
সভায় মন্ত্রী বলেন, এবার দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে উৎসবমুখর পরিবেশে বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপন করা হবে। দেশের পর্যটন সম্ভাবনা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে দেশীয় কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যভিত্তিক বিভিন্ন প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।
তিনি বলেন, শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক নয়, দেশের প্রতিটি জেলার পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরতে একই সময়ে জেলা পর্যায়ে দিবসটি উদযাপনের ব্যবস্থা নিতে হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যটনকেন্দ্র, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পরিচিতি বাড়বে।
আফরোজা খানম বলেন, দেশের পর্যটন শিল্পকে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। বিশ্ব পর্যটন দিবসের আয়োজনকে কেন্দ্র করে দেশের পর্যটন খাতের প্রচার ও প্রসারে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি অংশীজনদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।
সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসে দেশের জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রস্তুত করা টিভিসি (টেলিভিশন বিজ্ঞাপন) প্রচার করা হবে।
তিনি জানান, দেশের পর্যটন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রচারণামূলক কার্যক্রম নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিদেশি দূতাবাসের অতিথিদের সম্মানে লাইভ কুকিং শো এবং রান্না প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় রন্ধনশিল্পকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা সম্ভব হবে। দেশের খাবার, সংস্কৃতি ও আতিথেয়তাকে পর্যটন প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
সভায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বিশ্ব পর্যটন দিবসের এবারের আয়োজনের মাধ্যমে দেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনা, নতুন গন্তব্য এবং স্থানীয় সংস্কৃতিকে সামনে আনার পাশাপাশি তরুণদের জন্য পর্যটনভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
