আমদানি বাণিজ্যের সব বৈদেশিক মুদ্রা বিধিবিধান এক সার্কুলারে

আমদানি বাণিজ্যে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের সর্বশেষ বিধিবিধান একীভূত করে নতুন সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে আমদানি সংক্রান্ত বিভিন্ন সময়ে জারি করা নিয়মগুলো এক জায়গায় আনা হয়েছে। এতে আমদানি প্রক্রিয়া আরও সুসংগঠিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দেশনাগুলো অনুসরণ সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

নতুন সার্কুলারে গত এক বছরে জারি করা বিভিন্ন নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে আগের আমদানি সংক্রান্ত নির্দেশনাগুলো বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে আমদানি সংক্রান্ত রিপোর্টিংয়ের বিষয়ে আগের নির্দেশনাগুলো বহাল থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন কাঠামোয় আমদানি বাণিজ্য, অনলাইন রিপোর্টিং, ঋণপত্র বা এলসি খোলা, অনুমোদিত পরিশোধ পদ্ধতি এবং অগ্রিম অর্থ পাঠানোর নিয়ম রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বিল অব এন্ট্রি দাখিল, সরবরাহকারী ও ক্রেতার ঋণ, আমদানি দায় পরিশোধ এবং ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির বিধানও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিকল্প বাণিজ্য অর্থায়ন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে আমদানি-সংক্রান্ত নথি প্রক্রিয়াকরণ এবং আমদানি পরিশোধের ক্ষেত্রে রপ্তানি আয় সংরক্ষণের বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রায় অভ্যন্তরীণ এলসি, বিশেষায়িত ও মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল এবং স্বর্ণ, রুপা, গহনা ও বৈদেশিক মুদ্রার নোট আমদানির বিধানও নতুন সার্কুলারে রাখা হয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭-এর ২০(৩) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা এ নির্দেশনা ১৩ আগস্ট ২০২৬ থেকে এক বছর কার্যকর থাকবে। এ সময়ের মধ্যে আমদানি বাণিজ্য ও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন নিয়ে নতুন কোনো নির্দেশনা জারি হলে তা নতুন সার্কুলারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়ন করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, আমদানি বাণিজ্যে ডিজিটাল নথিপত্র এবং বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ছে। নতুন সার্কুলারে এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার নিয়মগুলোকে সামঞ্জস্য করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নতুন ব্যবস্থার সুফল পেতে হলে নির্দেশনাগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংক ও আমদানিকারকদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।