এক বছরের বেশি কারাভোগের পর মুক্তি পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক

দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় কারাগারে থাকার পর মুক্তি পেয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে কেরানীগঞ্জের বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি বেরিয়ে যান।

বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোহাঃ তায়েফ উদ্দিন মিয়া তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, খায়রুল হকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মোট নয়টি মামলার সবকটিতেই তিনি জামিন পেয়েছেন। সর্বশেষ গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা জুলাই আন্দোলন চলাকালে হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। এরপর তার কারামুক্তির ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি বাধা ছিল না।

তবে আদালতের অনুমতি ছাড়া আপাতত দেশের বাইরে যেতে পারবেন না বলে জামিনের শর্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার থেকে কারামুক্তি

গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এরপর বিভিন্ন মামলায় পর্যায়ক্রমে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে কারাগারে রাখা হয়। এক মামলায় জামিন পাওয়ার পর অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এ পরিস্থিতিতে বারবার নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ১৩ মে হাইকোর্টে রিট করেন তার ছেলে ও আইনজীবী আশিক উল হক। রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না করা এবং হয়রানি না করার নির্দেশ দেন।

পরবর্তী সময়ে বনানী থানার মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিন আপিল বিভাগ বহাল রাখেন। এর পরই তার কারামুক্তির পথ তৈরি হয়।

প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন

এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত তিনি এ পদে ছিলেন।

তার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর সব মামলায় জামিন পাওয়ায় বুধবার বিকেলে কেরানীগঞ্জের বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান সাবেক এই প্রধান বিচারপতি।