দীর্ঘ বিরতির পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদের মধ্যে এই নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম জানান, ভোটগ্রহণ শেষে দ্রুত ফল ঘোষণা এবং সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হবে। নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে।
এবার রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুই প্রার্থী। ক্ষমতাসীন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অলি আহমদ।
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। ফলে দীর্ঘ সময় পর রাষ্ট্রপতি পদে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে ভোট গ্রহণ হতে যাচ্ছে।
চিফ হুইপ জানান, বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর গণনা করে দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করা হবে। এরপর নির্বাচনের ফলাফলের সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হবে। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, সরকারপ্রধান, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য এবং সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
আইনি জটিলতা নেই: অ্যাটর্নি জেনারেল
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনে এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
বুধবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, বৃহস্পতিবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বর্তমানে কোনো আইনি জটিলতা নেই।
এর আগে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। তার যুক্তি ছিল, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান না, যা গণতান্ত্রিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
গত ১৮ আগস্ট বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটটি সরাসরি খারিজ করে দেন। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে আইনি বাধা দূর হয়।
শূন্য পদ পূরণেই নির্বাচন
গত ২৪ জুলাই শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। এরপর রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য হয়। সংবিধান অনুযায়ী শূন্য পদ পূরণের জন্যই এবার নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে।
আগামীকাল সংসদ সদস্যদের ভোটে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও অলি আহমদের মধ্য থেকে একজন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর শুক্রবার শপথের মধ্য দিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
