আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে দেশ-বিদেশে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন। তার দাবি, নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সিইসি। তিনি জানান, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
নির্বাচন নিয়ে আগ্রহের কারণ ব্যাখ্যা করে সিইসি বলেন, দেশে গণ-অভ্যুত্থানের পর একজন রাষ্ট্রপতি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেছেন। ফলে তৈরি হওয়া শূন্যতা পূরণে কে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন, তা নিয়ে দেশ ও দেশের বাইরে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
এ নির্বাচনকে নিজের জন্য ‘ভাগ্যের ব্যাপার’ এবং দেশের জন্য ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
ভোট হবে সংসদ ভবনে
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ ভবনের বিশেষ বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। পুরো নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন সিইসি নিজেই।
তিনি জানান, সংসদ সদস্যদের বিভক্তি নম্বরের ভিত্তিতে ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-৪ সংসদীয় আসন বর্তমানে শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশের কারণে এবার মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪৯ জনে।
নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্যে ভোট দিতে হবে। ব্যালট পেপারে ভোটারের নাম এবং তিনি কোন প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছেন, সেটিও উল্লেখ থাকবে।
চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দুই প্রার্থী
সিইসি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে অলি আহমদের নামে মনোনয়ন জমা দেওয়া হয়।
১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে অলি আহমদের নামে দুটি মনোনয়নপত্র জমা পড়লেও যাচাই-বাছাইয়ের পর সব মনোনয়নই বৈধ ঘোষণা করা হয়। একই প্রার্থীর পক্ষে একাধিক বৈধ মনোনয়ন থাকলে নিয়ম অনুযায়ী একটি গ্রহণ করে অন্যটি বাতিল করা হয়। ফলে চূড়ান্তভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও অলি আহমদ।
মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক ও সমর্থকদের স্বাক্ষর সংসদ সদস্যদের শপথ রেজিস্টারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে বলেও জানান সিইসি।
ভোট ও গণনা সরাসরি সম্প্রচার
নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান এ এম এম নাসির উদ্দিন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের শুরুতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার এবং বিরোধীদলীয় নেতা ভোট দেবেন। তাদের ভোট দেওয়ার দৃশ্য বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর গণনাও সরাসরি সম্প্রচারের আওতায় থাকবে। সংসদ সদস্যরা চাইলে ভোট গণনার সময় উপস্থিত থাকতে পারবেন। গণনা শেষে উপস্থিত সবার সামনে ফলাফল ঘোষণা করা হবে এবং পরবর্তী সময়ে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।
নির্বাচন আয়োজনে সংসদ সচিবালয় থেকে নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান সিইসি। নির্বাচন পরিচালনার জন্য ইসির পক্ষ থেকে ২০ জন কর্মকর্তার তালিকা সংসদ সচিবালয়ে পাঠানো হয়েছে।
প্রস্তুতি সম্পর্কে সিইসি বলেন, নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি নেই।
নির্বাচনে বাড়তি ব্যয় নিয়ে জল্পনা নাকচ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজন করতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যে আলোচনা রয়েছে, তা নাকচ করেছেন সিইসি। তিনি বলেন, নির্বাচনের জন্য কমিশনের বড় কোনো অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে না।
তার মতে, মূলত ব্যালট পেপার ছাপানো এবং কিছু স্টেশনারি কেনার মতো সীমিত খরচ রয়েছে। সংসদ ভবনের বিদ্যুৎ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় সংসদ সচিবালয় বহন করবে।
১৯৯১ সালের পর আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা এবং প্রচলিত আইন অনুসরণ করেই নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
