বর্তমান সরকারের সময়ে দেশের গণমাধ্যম আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি স্বাধীনভাবে কাজ করছে বলে দাবি করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সরকার কোনো ধরনের বাধা বা বিধিনিষেধ আরোপ করেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বুধবার (১৯ আগস্ট) ঢাকার তথ্য ভবনে সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন। সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। স্বাধীনতার পর দেশের গণমাধ্যম এমন স্বাধীনতা আগে কখনো ভোগ করেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে স্বাধীনতার সুযোগ যেন অপসাংবাদিকতা, হয়রানি কিংবা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের হাতিয়ার না হয়, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তথ্যমন্ত্রী।
অপপ্রচার ও চাঁদাবাজি বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন ভুয়া নিউজ পোর্টাল ব্যবহার করে অপপ্রচার ও চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান জহির উদ্দিন স্বপন। পেশাদার সাংবাদিকদের স্বার্থেই এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনীতি ও সাংবাদিকতার পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের সেবা করা। আর সাংবাদিকদের দায়িত্ব হচ্ছে ক্ষমতার ব্যবহার জনগণের কল্যাণে হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
বিগত সময়ে সাংবাদিকতার আড়ালে যারা ফ্যাসিবাদের পক্ষে কাজ করেছেন এবং গুম-খুন ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটের সহযোগী হয়েছেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।
ডিজিটাল মিডিয়া ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের পরিকল্পনা
সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মকে অন্তর্ভুক্ত করে আধুনিক, স্বচ্ছ ও সুস্থ একটি ডিজিটাল মিডিয়া ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে তথ্য মন্ত্রণালয় সংবাদপত্রের মালিক, সম্পাদক এবং সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। ভবিষ্যতেও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
সাংবাদিকদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষার তাগিদ
সাংবাদিকদের অধিকার ও কল্যাণের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতাকে আধুনিক শ্রম ও শিল্প আইনের আওতায় এনে পেশাটিকে শক্ত প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার মর্যাদা রক্ষা এবং কর্মরত সাংবাদিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে ফাউন্ডেশনকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার রুমি। এতে সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহসভাপতি ওমর ফারুক জালাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
