শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে যৌন হয়রানি এবং নিপীড়ন বন্ধে প্রস্তাবিত আইন প্রণয়নে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সংগঠনটির দাবি, হাই কোর্টের নির্দেশনার প্রায় ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আইন কার্যকর হয়নি। তাই দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে আইনটি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে তারা।
বুধবার (১৯ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরে মহিলা পরিষদ। ‘উত্ত্যক্তকরণ ও যৌন নিপীড়নকে না বলুন, ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন’ স্লোগানে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এতে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি এবং ব্র্যাকের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের উদ্যোগে মহিলা পরিষদ ২০০২ সাল থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সঙ্গে আলোচনা করে আসছে।
এর ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সালের ১৪ মে সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে অভিযোগ কমিটি গঠন এবং এ বিষয়ে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা দেন।
পরে মহিলা পরিষদের আইন সংস্কার বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে ‘যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ আইন’-এর একটি খসড়া প্রস্তুত করা হয়। ২০১০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আইন কমিশনে এবং একই বছরের ১৯ আগস্ট মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে খসড়াটি জমা দেওয়া হয়।
খসড়া নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ
সংবাদ সম্মেলনে মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ২০১০ সালে খসড়া জমা দেওয়ার পর দীর্ঘ সময় কোনো কার্যকর অগ্রগতি দেখা যায়নি। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নারী সংগঠন ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে খসড়াটিকে আরও পূর্ণাঙ্গ করা হয়।
তিনি বলেন, খসড়াটি সংসদে পাঠানোর জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার পর সেখানে নতুন করে সুপারিশ যুক্ত করার কথা শোনা যাচ্ছে। এতে নারী আন্দোলনের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাবের কোনো অংশ বাদ পড়ছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় সদিচ্ছার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারীর ওপর সহিংসতা শুধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ নয়, এটি সমাজের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে। এ ধরনের অপরাধ কমাতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্পষ্ট অবস্থান ও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
গোলাপী বাস স্থায়ী সমাধান নয়
সম্প্রতি নারীদের জন্য চালু হওয়া বিশেষ গোলাপী বাস সেবা নিয়েও কথা বলেন মহিলা পরিষদের সভাপতি। তিনি এটিকে সাময়িকভাবে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন। তবে নারীদের জন্য আলাদা পরিবহন ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয় বলেও জানান তিনি।
তার মতে, নারী ও পুরুষকে আলাদা করে রাখার মাধ্যমে স্থায়ীভাবে সমতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সাধারণ গণপরিবহনে কর্মজীবী নারীসহ সব নারীর নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াতের অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।
