এআই ক্যামেরায় বদলে গেল মহাসড়কের চিত্র, দেড় দিনে ৪৭২ মামলা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ক্যামেরা চালুর পর মাত্র দেড় দিনে বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৪৭২টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দিনেই মামলা হয়েছে ৪৩৪টি। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি চালুর পর মহাসড়কে আইন অমান্যের ঘটনা দ্রুত শনাক্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।

নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেইট পর্যন্ত প্রায় ২৫০ কিলোমিটার মহাসড়কে মোট ১ হাজার ৪২৭টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাট এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রযুক্তির কার্যক্রম উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেইট পর্যন্ত অংশ হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা অঞ্চলের আওতাধীন। এ অংশে স্থাপন করা হয়েছে ৪৫৩টি ক্যামেরা।

হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, মহাসড়কে সবচেয়ে বেশি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রমের ক্ষেত্রে। জাতীয় মহাসড়কে যানবাহনের সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার নির্ধারিত থাকলেও অনেক চালক তা মানতেন না। এআই ক্যামেরা চালুর ফলে এখন অতিরিক্ত গতি, অবৈধ পার্কিং, মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল এবং উল্টো পথে গাড়ি চালানোসহ বিভিন্ন অপরাধ শনাক্ত করা যাচ্ছে।

অটো ফাইনে বেড়েছে মামলা

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এআই ক্যামেরা চালুর আগে মহাসড়কে প্রতিদিন বিভিন্ন অভিযোগে গড়ে ১২০ থেকে ১৪০টি মামলা হতো। নতুন প্রযুক্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইন লঙ্ঘন শনাক্ত ও জরিমানার ব্যবস্থা থাকায় মামলার সংখ্যা হঠাৎ বেড়েছে।

প্রথম দেড় দিনে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মাইক্রোবাসের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে কয়েকটি সরকারি যানবাহনও রয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কীর্তিমান চাকমা জানান, গত দেড় দিনে অতিরিক্ত গতি, অবৈধ পার্কিং এবং উল্টো পথে গাড়ি চালানোর মতো অপরাধে এসব মামলা হয়েছে। কুমিল্লার দাউদকান্দি, ইলিয়টগঞ্জ, চান্দিনা, মিয়াবাজার, ফেনীর মহিপাল এবং চট্টগ্রামের মিরসরাই এলাকায় তুলনামূলক বেশি মামলা হয়েছে।

তিনি জানান, এআই ক্যামেরা চালুর প্রথম দিন মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত শুধু কুমিল্লা অঞ্চলে ৪৪৩টি মামলা করা হয়। এরপর রাত থেকে বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত আরও ৩৮টি মামলা হয়েছে।

মামলার পাশাপাশি জরিমানাও আদায় করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিভিন্ন যানবাহন থেকে ১৪ লাখ ৯৮ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় হয়। বুধবার সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আদায় হয়েছে আরও ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

চালকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে

কীর্তিমান চাকমার মতে, প্রযুক্তিটি চালুর প্রথম দিন অনেক চালক এআই ক্যামেরার কার্যক্রম সম্পর্কে জানতেন না। ফলে প্রথম দিন আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ও মামলার সংখ্যা তুলনামূলক বেশি ছিল।

তিনি বলেন, এখন চালকদের মধ্যে এআই ক্যামেরা সম্পর্কে ধারণা তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি জানার পর অনেকেই সতর্ক হয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন। ফলে মামলার সংখ্যাও ধীরে ধীরে কমে আসছে।

হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা মনে করছেন, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি অব্যাহত থাকলে মহাসড়কে ট্রাফিক আইন মানার প্রবণতা বাড়বে এবং অতিরিক্ত গতি, অবৈধ পার্কিং ও বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানোর মতো ঘটনা কমে আসবে।