স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার শঙ্কা, ২০ শতাংশ সক্ষমতা ঘাটতিতে পুলিশ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার ঝুঁকি বেশি বলে মনে করছে পুলিশ। তবে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাহিনীটির সক্ষমতায় প্রায় ২০ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় বর্তমানে পুলিশের প্রায় আড়াই হাজার যানবাহন কম থাকায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে এই সংকট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে জানিয়েছেন বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা।

বুধবার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব বিষয় উঠে আসে। অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব পক্ষ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের বিষয়ে একমত থাকায় সার্বিক পরিবেশ তুলনামূলক শান্ত ছিল। কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরিস্থিতি ভিন্ন। স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন দল ও মতের প্রার্থীরা জয় নিশ্চিত করতে সক্রিয় থাকেন। এ কারণে এ ধরনের নির্বাচনে সংঘাত ও সহিংসতার আশঙ্কা বেশি থাকে।

তিনি জানান, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় আড়াই হাজার যানবাহন কম রয়েছে। যানবাহনসহ প্রয়োজনীয় রসদের ঘাটতির কারণে পুলিশের স্বাভাবিক সক্ষমতা প্রায় ২০ শতাংশ কমে গেছে। নির্বাচনের সময় বিপুলসংখ্যক সদস্যকে মাঠপর্যায়ে মোতায়েন করতে হলে এই সংকট বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাহিনীতে বিভিন্ন ধরনের ১৬ হাজার ১৬৯টি যানবাহন সচল রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের কারণে যানবাহনের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়। ওই সময় ১ হাজার ৭৪টি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে ৪৫৫টি গাড়ি ও মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া এবং ৬২০টি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়।

এর বাইরে ২০২৫ সালে আরও ১ হাজার ৩৬৯টি যানবাহন পুরোনো হয়ে অকেজো হয়ে পড়ে। ফলে প্রয়োজনীয় যানবাহনের সঙ্গে পুলিশের বিদ্যমান সক্ষমতার ব্যবধান আরও বেড়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় হওয়া ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে বাহিনীকে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় যানবাহন ও সরঞ্জামের চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীনও। প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনা তুলনামূলক বেশি ঘটে। একই পরিবার, পাড়া বা এলাকায় একাধিক প্রার্থী থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেক সময় সংঘাতে রূপ নেয়।

নির্বাচনী সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন সিইসি। তিনি জানান, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সিসিটিভি ক্যামেরা, বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং ডিজিটাল ও অনলাইন মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত আইজিপি, মহানগর পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে পুলিশের যানবাহন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা না গেলে প্রত্যন্ত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচনী দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।