হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে শাহবাগ অবরোধ, হাদির মৃত্যুকে ঘিরে রাজধানীতে বিক্ষোভ

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘটনায় হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন একদল আন্দোলনকারী।

শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে আন্দোলনকারীদের শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর মধ্যে ছিল— ‘এই মুহূর্তে দরকার, বিপ্লবী সরকার’, ‘এক দুই তিন চার, ইন্টেরিম গদি ছাড়’, ‘রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘গোলামি না আজাদী, আজাদী-আজাদী’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা-ঢাকা’, ‘ভারতের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো’ ইত্যাদি।

এক সপ্তাহ আগে ভোটের প্রচারে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন শরীফ ওসমান হাদি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তার মৃত্যুর খবর আসে।

হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু হয়। জুলাই মঞ্চের কর্মী-সমর্থকরা শাহবাগ অবরোধ করেন। একই সঙ্গে শাহবাগে অবস্থান নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে মিছিল নিয়ে আসা শিক্ষার্থীরা ‘আধিপত্যবাদবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে টিএসসির সামনে বিক্ষোভ দেখান। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল বের করে। ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরাও বিক্ষোভে অংশ নেন।

এক পর্যায়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, উপদেষ্টা পরিষদ থেকে সদ্য পদত্যাগ করা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং মাহফুজ ইসলামসহ আরও অনেকে বিক্ষোভস্থলে যোগ দেন।

বিক্ষোভ চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামে পোস্টার লাগিয়ে দেন হল সংসদের নেতারা।
জানা গেছে, হাদির মরদেহ সিঙ্গাপুর থেকে সন্ধ্যায় দেশে আনা হবে। তার মৃত্যুর ঘটনায় শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার।