দেশের প্রথমসারির বাংলা দৈনিক প্রথম আলো ও ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার-এর কার্যালয়ে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাতে বিক্ষুব্ধ জনতা রাজধানীতে অবস্থিত এই দুই সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে একযোগে হামলা চালায়। হামলার সময় উভয় প্রতিষ্ঠানের বহু সংবাদকর্মী ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
শুক্রবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর ভবন এবং ফার্মগেটে ডেইলি স্টারের কার্যালয় অনেকাংশেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আগুনে ঝলসে যাওয়া ভবন দুটি যেন পোড়া শরীর নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সকালে ভবন দুটির সামনে উৎসুক মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রধান ফটকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
সকালে কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর ভবন থেকে আগুনের ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। আগুন পুরোপুরি নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করেন।
জানা গেছে, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার রাত ১২টার কিছু আগে শাহবাগ থেকে একদল লোক মিছিল নিয়ে কারওয়ান বাজারের দিকে অগ্রসর হয়। মিছিলটি প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে পৌঁছে ভবনটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করে।
একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধরা লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রথম আলো কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়। হামলায় কার্যালয়ের অধিকাংশ জানালার কাচ ভেঙে ফেলা হয়। রাত ১২টার দিকে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ভবনের ভেতরে ঢুকে টেবিল-চেয়ারসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বাইরে রাস্তায় বের করে এনে সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ভবনটিতেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
প্রথম আলো কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার পর উত্তেজিত জনতা রাজধানীর ফার্মগেটে ডেইলি স্টার কার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হয়। সেখানে পৌঁছে তারা একইভাবে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং ভবনে আগুন দেয়।
এই ঘটনার সময় রাতে ডেইলি স্টার ভবনের সামনে গিয়ে একদল ব্যক্তির হাতে নাজেহাল হন নিউ এইজ সম্পাদক এবং সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভাপতি নূরুল কবীর। এ সময় তাকে ‘আওয়ামী লীগের দালাল’ বলে স্লোগান দেওয়া হয়।
হামলার সময় দুই সংবাদমাধ্যমের অনেক কর্মী ভবনের ভেতরে আটকে পড়েন। কয়েক ঘণ্টা পর ভোরের দিকে তাদের উদ্ধার করা হয়। এসব হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর শুক্রবার প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার—উভয় পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ রয়েছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শাহবাগ থেকে একটি মিছিল বের হয়ে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
একই রাতে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বাঙালির সংস্কৃতিচর্চার ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের ভবনেও হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় এবং সেখানে আগুন দেওয়া হয়। পাশাপাশি ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গুঁড়িয়ে দেওয়া বাড়িতেও আরও এক দফা হামলার ঘটনা ঘটে।
