জামায়াত আমিরের বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, ভবিষ্যতেও একসঙ্গে কাজের ইঙ্গিত

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘অতীতের মতো’ ভবিষ্যতেও বিএনপির সঙ্গে থেকে ‘দেশের স্বার্থে’ কাজ করা হবে। এজন্য ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর সরকার গঠন হওয়ার আগেই আলোচনায় বসতে চান তিনি।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সহমর্মিতা জানাতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে যান জামায়াত আমির। সেখানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতাদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন তিনি।

সাক্ষাৎ থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াত আমির।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের গণভোট নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “নির্বাচন নির্বিঘ্ন হোক, সুন্দর হোক ও গ্রহণযোগ্য হোক, আমরা এটা দোয়া করি। আজকেই এ বিষয়ে আমরা আলাপ-আলোচনা করেছি এবং আমরা এটাও বলেছি, প্রিয় দেশের স্বার্থে অতীতে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি; আগামীতেও দেশের স্বার্থে ইনশাআল্লাহ একসঙ্গে কাজ করব।”

জামায়াতের আমির বলেন, “তারেক রহমান সাহেবসহ বিএনপির নেতারা একই আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন; আমরাও একই আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছি। আমরা বলেছি যে, পাঁচটা বৎসরের জন্য জাতির স্থিতিশীলতার স্বার্থে, একটা সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার স্বার্থে আমরা সবাই মিলেমিশে ভালো কোনো চিন্তা করতে পারি কিনা, সেটাও আমাদের চিন্তা করা দরকার।”

শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা এটাও বলেছি, নির্বাচনের পর সরকার গঠনের আগেই আমরা বসব; খোলা মনে কথা বলব। জাতির জন্য আমরা চিন্তা করব; জাতির জন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিব।”

গুলশান কার্যালয়ে যাওয়ার বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, “আমরা একটি নৈতিক দায়িত্ব পালন করার জন্য এখানে এসেছিলাম। বেগম খালেদা জিয়া, তিনি তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর বাইরেও তার একটি সংগ্রামী আপসহীন জীবন ছিল। তিনি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং মানুষের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন লড়াই করে গেছেন। সেই লড়াই করতে করতে তার শেষ জীবনটা অত্যন্ত বেদনাদায়কভাবে জেলেও একাকিত্বে কেটেছে। এই সময় যারা দেশ শাসন করেছেন, তারা তার সঙ্গে অমানবিক আচরণ করেছেন।”

তিনি বলেন, “তিনি যখন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেন, তখন তাকে বিদেশে নেওয়ার জন্য দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছে। সরকার তো আমলে নেইনি, বরং এগুলা নিয়ে বারবার উপহাস করেছে। শেষ পর্যন্ত তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন, বিদেশেও গিয়েছেন, কিন্তু ততক্ষণে তার বিশাল ক্ষতি হয়ে গেছে। সেই যে তিনি ব্রিটেন থেকে ফিরে এলেন। আর কিন্তু বিদেশ চিকিৎসা নিতে যাওয়ার মত উপযুক্ত স্বাস্থ্য থাকলো না। স্বাস্থ্যটা এতটাই ভেঙে পড়লো যে, শেষ চিকিৎসা তাকে দেশেই নিতে হয়েছে।”

সাক্ষাতের সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ও এজেডএম জাহিদ হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।