সাবেক প্রধান কৌঁসুলি তাজুল ইসলামের প্রতিবাদ: ‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ জঘন্য মিথ্যাচার’

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের একজন প্রসিকিউটর তার এবং অপর এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন, যা ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তাজুল ইসলাম বলেন, তার বিরুদ্ধে ছড়ানো তথ্যগুলো ‘জঘন্য মিথ্যাচার’ এবং ‘বিদ্বেষপ্রসূত’। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, অভিযোগের পক্ষে সামান্য তথ্য-প্রমাণও কেউ দেখাতে পারবে না। তার মতে, ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই একটি মহল এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর পুনর্গঠিত এই ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলির দায়িত্ব পান তাজুল ইসলাম। কিন্তু সোমবার তাকে সরিয়ে নতুন প্রধান কৌঁসুলি নিয়োগ দেওয়া হয়। একই দিনে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ আরেক প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিমের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেন ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ তোলেন।

সুলতান মাহমুদের অভিযোগ:
সুলতান মাহমুদ তার ফেসবুক মন্তব্যে অভিযোগ করেন, গত বছর নভেম্বরে আশুলিয়ার লাশ পোড়ানো মামলার আসামির স্ত্রী ভারী ব্যাগ নিয়ে প্রসিকিউটর তামিমের রুমে প্রবেশ করেন। তিনি এবং অন্য সহকর্মীরা বিষয়টি দেখার পর তৎকালীন প্রধান কৌঁসুলি তাজুল ইসলামকে জানালে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাদের বকাঝকা করা হয়। পরবর্তীতে ওই আসামিকে রাজসাক্ষী করে আদালত থেকে খালাস দেওয়া হয়।

এছাড়াও তিনি আরও কিছু মামলার ঘটনা উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন:

· চানখারপুলের মামলায় গুলির ঘটনার ভিডিও থাকা সত্ত্বেও পুলিশ সদস্যকে আসামি না করে সাক্ষী কেন করা হলো?
· রংপুরের আবু সায়ীদের মামলায় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে কেন অব্যাহতি দেওয়া হয়?
· সাবেক আইজি আব্দুল্লাহ আল মামুনকে কেন রাজসাক্ষী করা হলো, যার নির্দেশনায় পুলিশ বহু মানুষ হত্যা করেছে?
· আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো কেন টেনে নিয়ে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করে জনগণকে ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে?

অভিযোগ অস্বীকার:
অভিযুক্ত প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম অবশ্য এই অভিযোগ ‘ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, কাউকে রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) করা আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের স্বীকৃত একটি প্রক্রিয়া এবং এটা প্রসিকিউশনের সক্ষমতারই অংশ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সব অভিযোগের সত্যতা কেউ প্রমাণ করতে পারবে না।

সাবেক প্রধান কৌঁসুলি তাজুল ইসলাম তার বিবৃতিতে বলেন, তিনি এবং তার টিমের প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল স্বচ্ছ ও আইনানুগ। তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ ‘পতিত স্বৈরাচার ও গণহত্যাকারীদের’ সুবিধার্থে বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা বলে তিনি মন্তব্য করেন।