শেরপুরের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা: পরিবার হারানো শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্র

ঈদযাত্রার পথে বগুড়ার শেরপুরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজন নিহত হলেও আশ্চর্যজনকভাবে প্রাণে বেঁচে গেছে দেড় বছরের এক শিশু। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত রাজধানীতে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি শিশুটির চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও চিকিৎসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি বগুড়ার জেলা প্রশাসক এবং শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। একইসঙ্গে শিশুটিকে ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে দ্রুত স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, শিশুটির সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঢাকায় পৌঁছানোর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও সরাসরি কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ঘাটতি না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। সেইসঙ্গে শিশুটির চিকিৎসা ব্যয়ের সম্পূর্ণ দায়ভার সরকার বহন করবে বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে।

বুধবার সকালে ঢাকা থেকে রংপুরের কাউনিয়াগামী একটি মাইক্রোবাসে ১২ জন যাত্রী ঈদ উদযাপনের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে বগুড়ার শেরপুর এলাকায় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। পরে আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হলে শিশুটির বাবা-মাসহ আরও তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মরদেহ নিজ জেলা রংপুরের কাউনিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সেখানেই দাফনের প্রস্তুতি চলছে।

এই দুর্ঘটনা আবারও দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে ঈদকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল, দীর্ঘপথে ক্লান্ত চালক, এবং অনেক ক্ষেত্রে যানবাহনের ফিটনেস ঘাটতি—এসব বিষয় ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

বিশেষজ্ঞদের মতে—

  • দীর্ঘপথে চালকদের জন্য বাধ্যতামূলক বিশ্রাম নিশ্চিত করা জরুরি
  • যানবাহনের ফিটনেস যাচাই কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে
  • মহাসড়কে গতিনিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি বাড়াতে হবে

প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত হস্তক্ষেপ আহত শিশুটির চিকিৎসা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

এই ঘটনায় সরকারের মানবিক ভূমিকা স্পষ্ট হলেও, বারবার ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে—প্রতিক্রিয়ামূলক পদক্ষেপের পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাই এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত না হলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতেই থাকবে।