দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যেই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
বুধবার রাতে রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে কাউন্সিল অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। ২০১৬ সালের পর আর কাউন্সিল না হওয়ায় এবার তা আয়োজনের উদ্যোগকে তিনি “সময়ের দাবি” হিসেবে উল্লেখ করেন।
সরকারের কর্মকাণ্ডে আত্মবিশ্বাসের বার্তা
বর্তমান সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে স্বল্প সময়ের মধ্যেই বেশ কিছু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলট চালু
- কৃষকদের জন্য ঋণ মওকুফ সুবিধা
- খাল খনন কার্যক্রম শুরু
- ধর্মীয় ব্যক্তিদের জন্য ভাতা প্রদান
তিনি আরও জানান, আগামী পহেলা বৈশাখ থেকে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হবে, যা কৃষি সহায়তায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
অর্থনীতি ও নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে চ্যালেঞ্জিং আখ্যা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করাই এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নেতৃত্ব পরিবর্তনের পর নীতিগত কিছু সংস্কার এসেছে, যার ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা আবারও ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ পাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি। সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শিক্ষা, রাজনীতি ও ‘মব কালচার’ প্রসঙ্গ
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সরকার তাদের নীতির ভিত্তিতেই যোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেয়। নিয়োগপ্রাপ্তদের একাডেমিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশে ‘মব কালচার’ নেই দাবি করে তিনি বলেন, সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে।
সংসদ ও গণতন্ত্র নিয়ে অবস্থান
জাতীয় সংসদের কার্যক্রম নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সংসদে মতবিরোধ, বিতর্ক ও ওয়াকআউট গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ। একটি কার্যকর সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
রাজনৈতিক সতর্কবার্তা ও পররাষ্ট্রনীতি
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, “পতিত শক্তি” দেশ-বিদেশ থেকে নানা ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে “সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়”—এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সরকার ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বজায় রাখার বিষয়েও সরকার ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে বলে জানান।
বিএনপির আসন্ন কাউন্সিল শুধু সাংগঠনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে। প্রায় এক দশক পর এই আয়োজন—
- নেতৃত্বে পরিবর্তন বা পুনর্বিন্যাসের সুযোগ তৈরি করবে
- মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখবে
- সরকারের অংশ হিসেবে দলের রাজনৈতিক অবস্থান আরও স্পষ্ট করবে
