সংসদে বিল পাস ঘিরে বিভ্রান্তি: ‘আমরা কিছুটা কনফিউশনে পড়েছি’: জামায়াত আমি

আজ শুক্রবার জাতীয় সংসদে একাধিক বিল পাসের সময় প্রক্রিয়া নিয়ে বিভ্রান্তির কথা প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিলের তালিকা ও উপস্থাপনা নিয়ে অস্পষ্টতার কারণে তাদের দল কিছুটা বিভ্রান্তিতে পড়েছে বলে জানান তিনি।

শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও সংসদের অধিবেশন চলতে থাকে। অধিবেশনের নির্ধারিত কার্যসূচি অনুযায়ী আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে একে একে কয়েকটি বিল উত্থাপন ও পাস করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

অধিবেশনের এক পর্যায়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘আমানত সুরক্ষা বিল, ২০২৬’, ‘দি এক্সাইজ অ্যান্ড সল্ট (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ সংসদে পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে এসব বিল কণ্ঠভোটের মাধ্যমে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

তবে ‘আমানত সুরক্ষা বিল’ পাসের প্রক্রিয়ায় কথা বলার জন্য ফ্লোর চান জামায়াতের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। স্পিকার তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিলে তিনি আপত্তি তুলতে গিয়ে ভিন্ন একটি আইন—‘ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ ২০২৫’—সম্পর্কে বক্তব্য দিতে শুরু করেন। এতে অধিবেশনে কিছুটা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ওই সংসদ সদস্যকে সতর্ক করে বলেন, আইন প্রণয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আরও মনোযোগী থাকা প্রয়োজন। তিনি মন্তব্য করেন, এভাবে ভিন্ন প্রসঙ্গ তুলে ধরা হলে কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

পরবর্তীতে তিনটি বিল পাস হওয়ার পর বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানান, সংসদ সচিবালয় থেকে সরবরাহ করা নথিতে ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন’ অন্তর্ভুক্ত ছিল, কিন্তু তা আলোচনার সময়সূচিতে না আসায় তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিলটি পরবর্তীতে উত্থাপিত হবে কিনা।

এর জবাবে স্পিকার নিশ্চিত করেন যে, সংশ্লিষ্ট বিলটি পরবর্তী সময়ে সংসদে উপস্থাপন করা হবে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর জামায়াত আমির স্পিকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তার আসনে ফিরে যান।

এদিনের অধিবেশনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের পাশাপাশি সংসদের কার্যপ্রণালী ও সমন্বয় নিয়ে সংক্ষিপ্ত এই বিভ্রান্তির ঘটনাও আলোচনায় আসে।