শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বৈশাখী মেলা কেবল একটি সাংস্কৃতিক মিলনমেলা নয়; এটি দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। বাংলা নববর্ষ মানুষের জীবনে বিশেষ আনন্দ বয়ে আনে এবং এ উপলক্ষে আয়োজিত মেলাগুলো ঐতিহ্য ও সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।
মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ ও চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে আয়োজিত সাত দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এবং বাংলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে এই মেলার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশের উৎপাদনশীলতা শুধু বৃহৎ শিল্পকারখানায় সীমাবদ্ধ নয়; গ্রামীণ কারুশিল্পী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং গৃহভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থাও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাদের সৃজনশীলতা ও শ্রম জাতীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে। ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প খাত কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম প্রধান মাধ্যম বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমের সভাপতিত্বে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মাওলা, বিসিকের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম এবং বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বক্তব্য দেন।
উদ্বোধন শেষে মন্ত্রীদ্বয় বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে মেলার সূচনা করেন এবং বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
মেলায় মোট ১৬০টি স্টল রয়েছে। এর মধ্যে বস্ত্র খাতের ৪৪টি, চামড়াজাত পণ্যের ৭টি, জামদানির ৬টি, নকশিকাঁথার ৪টি, শতরঞ্জির ৫টি এবং মণিপুরি শাড়ির ২টি স্টল রয়েছে। এছাড়া কারুশিল্পী জোন, শিশুদের বিনোদন, পুতুলনাচ, বায়োস্কোপ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে।
সার্বজনীন এই লোকজ মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলা চলবে আগামী ২০ এপ্রিল পর্যন্ত।
