গাজীপুরে ঘোড়া জবাই ও ঘোড়ার মাংসের অবৈধ বেচাকেনার অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দেশে ঘোড়ার মাংসের অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ও নির্দেশিকা প্রণয়ন করে ৯০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল জারি করে এ আদেশ দেয়।
আদালত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি অভিযানে জব্দ করা ঘোড়া নিলাম বা অন্য কোনো উপায়ে হস্তান্তর রোধে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গাজীপুরের হায়দরাবাদ এলাকায় গত বছরের নভেম্বরের প্রথম দিকে বেআইনিভাবে ঘোড়া জবাই এবং ঘোড়ার মাংস বিক্রির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে চলতি বছরের ১০ মে অভয়ারণ্য-বাংলাদেশ প্রাণিকল্যাণ ফাউন্ডেশন, এ কে খান স্বাস্থ্যসেবা ট্রাস্ট এবং অভিনেত্রী জয়া আহসান রিট আবেদন করেন।
আদালতের জারি করা রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে, ঘোড়ার মাংস ও রোগাক্রান্ত পশুর অবৈধ জবাই, মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিতরণ ও বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সাকিব মাহবুব। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী সাজিদ হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন উপ-অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান ও মাহফুজ বিন ইউসুফ।
