জুলাই আন্দোলনের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা: হানিফসহ চার আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চাইল রাষ্ট্রপক্ষ

জুলাই আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ চার আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

রোববার (৭ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এ আবেদন জানানো হয়।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে মামলার শুনানি চলছে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মামলার অপর আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী এবং কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান। চারজনই বর্তমানে পলাতক।

শুনানির শেষ পর্যায়ে প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালের কাছে আইন অনুযায়ী আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করেন।

এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট এবং সে সময়কার সরকারের ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন ছিল বৈধ। তবে সরকার সেই দাবি মেনে না নিয়ে দমনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের হত্যার ঘটনার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানায় এবং পরবর্তীতে তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় সরকার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে বলেও তিনি দাবি করেন।

শুনানির একপর্যায়ে ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন প্রসঙ্গে আমিনুল ইসলাম বলেন, আইন প্রণেতাদের দূরদর্শিতার কারণে এত বছর পরও আইনটি কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে।

রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়া শহরে ছয়জনকে হত্যাসহ মোট তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এই চার নেতাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছাত্র-জনতার ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়া এবং হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণের অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে পাওয়া গেছে।

রাষ্ট্রপক্ষের নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ রয়েছে।