আমদানির চাপেই বাড়ছে বাণিজ্য ঘাটতি, পাঁচ বছরে বেড়েছে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার

দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে আমদানি ও রপ্তানির ব্যবধান উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। তিনি বলেছেন, গত পাঁচ অর্থবছরে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৪.১৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সরকারি দলের সদস্য জসীম উদ্দিন আহমেদের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন।

মন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। পূর্ববর্তী সরকারের নীতিগত দুর্বলতার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধজনিত মূল্যস্ফীতি, ডলারের সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। একই সঙ্গে জ্বালানি, খাদ্যপণ্য ও শিল্প খাতের কাঁচামাল আমদানিতে ব্যয় বৃদ্ধি এবং রপ্তানির তুলনামূলক ধীরগতির প্রবৃদ্ধিও ঘাটতি বাড়ার অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১৬.২৪ বিলিয়ন ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে ২৮.১৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ঘাটতি ছিল ২৭.১৮ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে ২১.৫০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আবারও বেড়ে তা ২৪.১৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

একইসঙ্গে গত পাঁচ অর্থবছরের আমদানি ও রপ্তানির পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এ সময়ের রপ্তানি আয় ছিল যথাক্রমে ৪৫.৩৬ বিলিয়ন, ৬০.৯৭ বিলিয়ন, ৫৩.৯২ বিলিয়ন, ৫১.১১ বিলিয়ন এবং ৫৫.১৯ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে আমদানি ব্যয় ছিল ৬১.৬০ বিলিয়ন, ৮৯.১০ বিলিয়ন, ৭৮.২৯ বিলিয়ন, ৭২.৬১ বিলিয়ন এবং ৭৯.৩৫ বিলিয়ন ডলার।

রপ্তানি আয়ের উৎস বৈচিত্র্যময় করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিশ্বের ২০২টি দেশে পণ্য রপ্তানি করেছে। তবে মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশই তৈরি পোশাক খাত থেকে এসেছে, যা দেশের রপ্তানি কাঠামোকে একটি খাতের ওপর অত্যধিক নির্ভরশীল করে তুলেছে।

এই নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে সরকার সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে সহায়তা ও প্রণোদনা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তিনি। চামড়া, পাট, কৃষিপণ্য, ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, হিমায়িত খাদ্য ও মাছ এবং প্লাস্টিক শিল্পের রপ্তানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বন্ড সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট (ওডিওপি)’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় দেশের ৬৪ জেলার জন্য ১৪টি সম্ভাবনাময় পণ্য ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্যিক সুযোগ বৃদ্ধি করতে মালয়েশিয়া, তুরস্ক ও নিউজিল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে সরকার।