ঠিকাদারি ব্যবস্থার দুর্বলতায় গ্রামীণ উন্নয়ন কাজে মানহানি, বিধিমালা পর্যালোচনার আশ্বাস

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজের মান ও ঠিকাদারি ব্যবস্থার নানা দুর্বলতা নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা হয়েছে। সংসদ সদস্যদের উত্থাপিত উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালার কার্যকারিতা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

সোমবার (৮ জুন) কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধিতে উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের আলোচনায় অংশ নিয়ে নরসিংদী-৫ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিন বিষয়টি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) দেশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক, সেতু, কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই প্রকল্পের কাজ সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিবর্তে দূরবর্তী জেলা বা বিভাগের বড় ঠিকাদারদের হাতে চলে যাচ্ছে। এসব ঠিকাদার অধিকাংশ সময় প্রকল্প এলাকায় সরাসরি উপস্থিত থাকেন না এবং স্থানীয় বাস্তবতা সম্পর্কেও পর্যাপ্ত ধারণা রাখেন না।

আশরাফ উদ্দিনের অভিযোগ, কাজ পাওয়ার পর অনেক ঠিকাদার প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব অনানুষ্ঠানিকভাবে স্থানীয় পর্যায়ের অনভিজ্ঞ বা অদক্ষ ব্যক্তিদের কাছে হস্তান্তর করেন। একাধিক ধাপে কাজ হাতবদল হওয়ার ফলে প্রকল্প ব্যয়ের একটি বড় অংশ বিভিন্ন স্তরে কমে যায়। এতে শেষ পর্যন্ত নির্মাণকাজে ব্যয় সংকোচনের প্রবণতা দেখা দেয় এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় ঠিকাদারদের অধিক সুযোগ দেওয়া হলে তারা এলাকার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, জনসাধারণের প্রয়োজন এবং প্রকল্পের বাস্তব চাহিদা সম্পর্কে বেশি অবগত থাকবেন। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের কাছে জবাবদিহির বিষয়টিও তাদের কাজের মান নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এলজিইডির প্রকল্পগুলো সরকারি ক্রয় আইন-২০০৬ এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালার আওতায় পরিচালিত হয়। বিদ্যমান ব্যবস্থায় পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রকল্প সীমিত দরপত্র পদ্ধতিতে বাস্তবায়িত হয়, যেখানে সংশ্লিষ্ট জেলার নিবন্ধিত ঠিকাদাররা অংশ নিতে পারেন। আর উন্মুক্ত দরপত্রের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দেশের যেকোনো অঞ্চলের ঠিকাদার কাজ পাওয়ার সুযোগ পান।

আলোচনার একপর্যায়ে সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন ই-জিপি পদ্ধতির কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কিছু প্রভাবশালী ঠিকাদার শক্তিশালী কাগুজে সক্ষমতা দেখিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলের প্রকল্পের কাজ অর্জন করেন। কিন্তু পরে তারা নিজেরা কাজ না করে একাধিক ধাপে অন্যদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এর ফলে প্রকল্প ব্যয় কমে যায় এবং নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে কাজ শেষ করার প্রবণতা তৈরি হয়।

এ বিষয়ে মন্ত্রী সংসদ সদস্যদের উদ্বেগের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, মাঠপর্যায়ে এমন অনিয়মের অভিযোগ সরকারের নজরে রয়েছে। ঠিকাদারি ব্যবস্থায় কাজ হাতবদল হওয়া এবং এর প্রভাবে উন্নয়ন প্রকল্পের মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, উন্নয়ন কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে বিদ্যমান সরকারি ক্রয় আইন ও সরকারি ক্রয় বিধিমালা পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়েও সরকার ইতিবাচকভাবে ভাবছে।