গ্রাহকের অজান্তে তার নামে ইস্যুকৃত ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে লেনদেন এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এক সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন সারোয়ার হোসেন (৪০)। তিনি এক সময় একটি বেসরকারি ব্যাংকের সিনিয়র রিলেশনশিপ অফিসার (কার্ড সেলস, রিটেইল ব্যাংকিং) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

সিআইডি জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (৮ জুন) বিকেলে রাজধানীর গুলশান এলাকার একটি বাণিজ্যিক ভবনের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে এক গ্রাহক তার নামে একটি ক্রেডিট কার্ডের আবেদন করেন। পরে কার্ডটির প্রয়োজন না থাকায় সেটি ব্যবহার না করে ব্যাংকে ফেরত দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংক কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেন কার্ডটি ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন এবং ভুয়া মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা ব্যবহার করে কার্ডটির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখেন। ফলে কার্ডসংক্রান্ত সব ওটিপি তার কাছে পৌঁছাত।
এরপর তিনি ওই কার্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে প্রতারণামূলক আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
সম্প্রতি ভুক্তভোগী ব্যক্তি ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) রিপোর্টে নিজের নামে ঋণের তথ্য দেখতে পেয়ে বিস্মিত হন। বিষয়টি সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না বলে দাবি করেন। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকে লিখিত অভিযোগ দিলে ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নজরে আসে।
ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে অনিয়ম ও জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার পর চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় প্রতারণা, জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার তদন্তে জানা যায়, ২০১৭ সালের শেষ দিক থেকে ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ভুক্তভোগীর অজ্ঞাতে ওই ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে মোট ১৭ লাখ ৭০ হাজার ২১৩ টাকার লেনদেন করা হয়। এর মধ্যে ১৪ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করা হলেও সুদ ও অন্যান্য দায়সহ প্রায় ৫ লাখ ৫৭ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সিআইডির ভাষ্য, অভিযুক্ত ব্যক্তি চাকরিতে থাকা অবস্থায় গ্রাহকের প্রতি অর্পিত দায়িত্ব ও বিশ্বাসের অপব্যবহার করে এ জালিয়াতি করেন। এমনকি ২০১৯ সালে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পরও তিনি একই কার্ড ব্যবহার করে লেনদেন চালিয়ে যান।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সারোয়ার হোসেন অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি। এছাড়া তিনি একই ধরনের প্রতারণার মাধ্যমে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।
সিআইডি জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। গ্রেফতারকৃতকে আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
