সিভিল জজ পদে নিয়োগের আগে ৫ বছরের আইন পেশার অভিজ্ঞতা চায় রাজশাহী বার

অধস্তন বিচার বিভাগে বিচারকের মানোন্নয়ন এবং বাস্তবভিত্তিক বিচারিক দক্ষতা নিশ্চিত করতে সিভিল জজ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কমপক্ষে পাঁচ বছরের আইন পেশায় সক্রিয় অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছে রাজশাহী অ্যাডভোকেট বার অ্যাসোসিয়েশন।

এ দাবিতে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিটি স্বাক্ষর করেন রাজশাহী অ্যাডভোকেট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ মো. আবুল কাসেম এবং সাধারণ সম্পাদক পারভেজ তৌফিক জাহেদী।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীরা সরাসরি বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে প্রবেশের সুযোগ পান। তবে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগে আদালত ও বিচারিক কার্যক্রম সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে সিভিল জজ পদে নিয়োগের জন্য অন্তত পাঁচ বছরের ওকালতির অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।

বার নেতারা উল্লেখ করেন, বিচার বিভাগ ২০০৭ সালে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক হওয়ার আগে জুডিশিয়াল সার্ভিসে প্রবেশের ক্ষেত্রে দুই বছরের আইন পেশার অভিজ্ঞতা আবশ্যক ছিল। এছাড়া প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশের অধস্তন বিচার বিভাগেও নিয়োগের পূর্বশর্ত হিসেবে আইন পেশায় কাজ করার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়া হয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেতে ন্যূনতম ১০ বছরের আইন পেশার অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক। সেই বিবেচনায় বিচার বিভাগের প্রাথমিক স্তরে নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারকদের ক্ষেত্রেও বাস্তব আদালত-অভিজ্ঞতা থাকা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

অভিজ্ঞতার শর্ত আরোপের ফলে প্রার্থীদের বয়সসীমা নিয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হলে তা সমাধানে প্রয়োজনীয় নীতিগত পরিবর্তনেরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ জন্য বিচার বিভাগে প্রবেশ এবং অবসরের বয়সসীমা পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছে।

রাজশাহী বার অ্যাসোসিয়েশন তাদের আবেদনে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে সিভিল জজ নিয়োগের বর্তমান পদ্ধতি বহাল রেখে পাঁচ বছরের ওকালতির অভিজ্ঞতাকে বাধ্যতামূলক যোগ্যতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।

জানা গেছে, বিষয়টি অবহিতকরণ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য চিঠির অনুলিপি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, অ্যাটর্নি জেনারেল, আইন সচিব, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল এবং রাজশাহীর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।