নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আপিল দ্রুত নিষ্পত্তিতে হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর ডেথ রেফারেন্স ও সংশ্লিষ্ট আপিলের দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হাইকোর্টে একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতির এ উদ্যোগের ফলে এ ধরনের সংবেদনশীল মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

সুপ্রিম কোর্টের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১৪ জুন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে নবগঠিত বেঞ্চটির কার্যক্রম শুরু হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশ্লিষ্ট মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন এবং এ-সংক্রান্ত আপিল শুনানিই হবে এই বেঞ্চের প্রধান দায়িত্ব।

বুধবার (১০ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর স্বাক্ষরিত হাইকোর্ট বিভাগের ১৪৩ নম্বর গঠনবিধিতে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজাকে নিয়ে একটি ডিভিশন বেঞ্চ গঠনের বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য পাঠানো ডেথ রেফারেন্স মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি করবে এই বেঞ্চ। একই সঙ্গে এসব মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি আপিল, জেল আপিল, আপিল গ্রহণের আবেদন, রিভিশন ও অন্যান্য বিবিধ আবেদনও একই বেঞ্চে নিষ্পত্তি করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত রোববার আপিল বিভাগের কার্যক্রম চলাকালে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তার প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি বিশেষ বেঞ্চ গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বছরের পর বছর ঝুলে থাকা নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাগুলোর আপিল নিষ্পত্তির গতি বাড়বে এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত বিচার পাবে।

এ প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল সম্প্রতি আলোচিত শিশু রামিসা হত্যা মামলার উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অতি সম্প্রতি আলোড়ন সৃষ্টিকারী রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় নিম্ন আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন।

গত ৭ জুন ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। রায়ে তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রির মাধ্যমে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভুক্তভোগী পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

এদিকে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য প্রয়োজনীয় ডেথ রেফারেন্স প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিচারিক আদালতের রায় ও মামলার নথিপত্র মঙ্গলবার হাইকোর্টে পাঠানো হয় এবং বুধবার বিকেলে তা আদালতে পৌঁছায়।

বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, কোনো ফৌজদারি মামলায় বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলে সেই রায় কার্যকর হওয়ার আগে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন নিতে হয়। এই প্রক্রিয়াই ডেথ রেফারেন্স নামে পরিচিত। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা জেল আপিল, নিয়মিত আপিল এবং বিভিন্ন ধরনের আবেদন করার সুযোগ পান। সাধারণত ডেথ রেফারেন্স ও সংশ্লিষ্ট আপিলগুলো একসঙ্গেই শুনানি হয়ে থাকে।

নতুন গঠিত বিশেষ বেঞ্চে শিশু রামিসা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের আপিলও শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।