গাজী নজরুল বহিষ্কার, এমপি পদ নিয়ে অনিশ্চয়তা

নৈতিক স্খলনের অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের পর তার সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সরাসরি কিছু করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসি মাছউদ এ কথা জানান।

তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল কাউকে বহিষ্কার করলেও শুধু সেই বহিষ্কারের চিঠির ভিত্তিতে সংসদ সদস্য পদ বাতিল করার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সরাসরি কোনো এখতিয়ার নেই। তিনি বলেন, কোনো সংসদ সদস্য দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে তার আসন শূন্য হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট। তবে দল থেকে বহিষ্কারের ক্ষেত্রে বিষয়টি আইন ও সাংবিধানিক ব্যাখ্যার সঙ্গে সম্পর্কিত।

ইসি মাছউদ আরও বলেন, গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে স্পিকার বা জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক রেফারেন্স বা চিঠি নির্বাচন কমিশনে এলে কমিশন সংবিধান ও প্রচলিত আইন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

তিনি জানান, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্যের অযোগ্যতার বিষয়ে স্পিকার নির্বাচন কমিশনের কাছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বিষয়টি পাঠাতে পারেন। সে ক্ষেত্রে কমিশন আইন অনুযায়ী বিষয়টি বিবেচনা করবে।

এর আগে গত সোমবার গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক নারীর একটি অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে জামায়াতের পক্ষ থেকে এটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও পরে গাজী নজরুল ইসলাম নিজের ফেসবুক পোস্টে ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সাংগঠনিক তদন্তের পর গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানানো হয়।

দলটির গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে এ সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে জানায় জামায়াতে ইসলামী।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বৃহস্পতিবার জানান, স্পিকার কার্যালয় ও নির্বাচন কমিশনে দলীয় চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠিতে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

জামায়াতের পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের বিষয়ে পরিচালিত সাংগঠনিক তদন্তে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হয়েছে। এর ভিত্তিতে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এদিকে সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্য নিজ দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে দলের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে কোনো দল কাউকে বহিষ্কার করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে কি না, সে বিষয়ে সংবিধানে সরাসরি কোনো বিধান নেই।

তাদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে স্পিকারের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রয়োজন হলে স্পিকার নির্বাচন কমিশনের মতামত বা আইনি ব্যাখ্যা চাইতে পারেন।

গাজী নজরুল ইসলাম গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ নিয়ে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দলীয় বহিষ্কারের পর এখন তার সংসদ সদস্য পদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।