ছবি সংযুক্ত না করে শুধু বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র ইস্যুর সুযোগ নেই।
বুধবার বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ চূড়ান্ত শুনানি শেষে চার বছর আগে জারি করা রুল খারিজ করে এ রায় দেন।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শেখ ওমর শরীফ ও ইলিয়াছ আলী মন্ডল। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মো. আরিফুর রহমান।
রিটের পেছনের ঘটনা
ঢাকার শাহজাহানপুর শান্তিবাগের বাসিন্দা সুমাইয়া আহমাদ মুনা ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেন। তিনি নিজেকে প্রাপ্তবয়স্ক পর্দানশীন মুসলিম নারী হিসেবে উল্লেখ করে জানান, ধর্মীয় বিধান অনুসরণের কারণে তিনি ছবি তোলেন না। এ কারণে তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রও হয়নি এবং এনআইডি না থাকায় বিভিন্ন সরকারি ও নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
আবেদনে ছবি ছাড়াই বিকল্প পরিচয় শনাক্তকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করে এনআইডি দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়। বিকল্প হিসেবে আঙুলের ছাপ, হাতের জ্যামিতিক বৈশিষ্ট্য, তালুর ছাপ, আইরিস, মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ, ডিএনএ ও স্বাক্ষরসহ বিভিন্ন বায়োমেট্রিক ফিচার ব্যবহারের কথা বলা হয়।
নির্বাচন কমিশন থেকে কাঙ্ক্ষিত ব্যবস্থা না পাওয়ার পর ওই বছরের ৬ মার্চ হাইকোর্টে রিট করেন সুমাইয়া। প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করে জানতে চান, ছবি সংযুক্ত না করে বিকল্প বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করে আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার সেই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত রুলটি খারিজ করে দেন।
আইনে ছবি ছাড়া এনআইডির সুযোগ নেই: ইসির আইনজীবী
রায়ের পর নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র ছবিসহ দেওয়ার বিষয়টি প্রচলিত আইনের বিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত। জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন ২০১০, ভোটার তালিকা আইন ২০০৯ এবং জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন বিধিমালা ২০১৪ একসঙ্গে পর্যালোচনা করলে ছবি ছাড়া এনআইডি দেওয়ার আইনগত সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, এমন বিধান রিটকারী পক্ষ দেখাতে পারেনি। একইভাবে ছবি ছাড়া এনআইডি পাওয়ার আইনগত অধিকারও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
তাঁর ভাষ্য, বায়োমেট্রিক তথ্য জাতীয় পরিচয় শনাক্তকরণের অংশ হলেও তা এনআইডিতে ছবির বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের আইনি সুযোগ নেই। এ কারণেই আদালত রুলটি খারিজ করেছেন।
আপিলের প্রস্তুতি রিটকারীর
রিট আবেদনকারীর আইনজীবী শেখ ওমর শরীফ জানিয়েছেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে।
তিনি বলেন, তাঁর মক্কেল একজন প্রাপ্তবয়স্ক পর্দানশীন মুসলিম নারী এবং ধর্মীয় বিধান অনুসরণের কারণে ছবি তোলেন না। ফলে তাঁর এনআইডি হয়নি। জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় তিনি বিভিন্ন নাগরিক ও সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই ছবি ছাড়া বিকল্প পদ্ধতিতে এনআইডি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল।
তবে চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল খারিজ করে দেওয়ায় বর্তমানে ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার বিষয়ে ওই রিটের মাধ্যমে কোনো সুযোগ তৈরি হলো না।
