আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে চিঠি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচজন আইনপ্রণেতা। চিঠিতে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বার্থে বিষয়টি নতুন করে ভাবার অনুরোধ জানান।
তবে এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, তিনি ওই চিঠির বিষয়ে অবগত নন। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রেস সচিব জানান, তিনি সংশ্লিষ্ট চিঠিটি দেখেননি এবং এ বিষয়ে কোনো তথ্য তাঁর কাছে নেই। একই সঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, যেহেতু আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন বাতিল করেছে, সেহেতু দলটি আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।
চিঠিতে স্বাক্ষর করা পাঁচজন মার্কিন আইনপ্রণেতা হলেন—গ্রেগরি ডব্লিউ মিকস, বিল হুইজেঙ্গা, সিডনি কামলাগার-ডোভ, জুলি জনসন এবং থমাস আর সুওজি।
কংগ্রেসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের শাসনামলে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। এছাড়া গত বছরের জুলাইয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনাও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অপরাধকে ব্যক্তিগত দায় হিসেবে বিবেচনা করে গণতন্ত্রের বৃহত্তর স্বার্থে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত রাজনৈতিক অঙ্গনের সব দলের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করা। এর মাধ্যমেই বাংলাদেশের জনগণের কণ্ঠস্বর ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিফলিত হতে পারে বলে তারা মত দেন।
এছাড়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সততা ও নিরপেক্ষতার ওপর জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় সংস্কারের কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন আইনপ্রণেতারা শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সরকার যদি রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম স্থগিত রাখে অথবা ত্রুটিপূর্ণ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনরায় চালু করে, তাহলে কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক লক্ষ্য অর্জন ব্যাহত হতে পারে।
