বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। তার লাশবাহী গাড়িবহর গুলশানের বাসভবন থেকে সংসদ ভবনের সামনে পৌঁছায়, যেখানে মানিক মিয়া অ্যাভেনিউতে বাদ জোহর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাকে বনানীর জিয়া উদ্যানে তার স্বামী রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।
বুধবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে জাতীয় পতাকাবাহী শোভিত লাশবাহী গাড়িটি সংসদ ভবনের সামনে পৌঁছায়। গাড়িবহরে একটি বাসে তার বড় ছেলে তারেক রহমান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন।
বেলা ১১টার দিকে গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসভবন থেকে খালেদা জিয়ার মরদেহ নিয়ে গাড়িবহর রওনা দেয়। এর আগে, সকাল সোয়া ৯টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে তার কফিন উক্ত বাসভবনে নিয়ে আসা হয়। এই বাসভবনে তারেক রহমান, তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান থাকেন।
মানিক মিয়া অ্যাভেনিউয়ের পশ্চিম প্রান্তে স্থাপিত একটি মঞ্চে জানাজার আগে তার কফিন রাখা হবে। সেখানে বাদ জোহর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। ১৯৮১ সালের ২ জুন একই স্থানে তার স্বামী, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জানাজা হয়েছিল।
খালেদা জিয়ার জানাজা শেষে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তাকে বনানীর জিয়া উদ্যানে জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হবে। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের অংশ এবং পুরো মানিক মিয়া অ্যাভেনিউজুড়ে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক নারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। মিরপুর সড়ক ব্যবহার না করারও অনুরোধ করা হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, খালেদা জিয়ার কফিন বহনের জন্য এভারকেয়ার হাসপাতাল, ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে, কুড়িল ফ্লাইওভার, নৌ সদর দপ্তর হয়ে বাসভবন ফিরোজা এবং গুলশান-২, কামাল আতাতুর্ক অ্যাভেনিউ, এয়ারপোর্ট রোড, মহাখালী ফ্লাইওভার, জাহাঙ্গীর গেট, বিজয় সরণি, উড়োজাহাজ ক্রসিংয়ের সড়কে বুধবার যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে।
গত ৪০ দিন ধরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়াকে মঙ্গলবার ভোর ৬টায় মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ‘আপসহীন নেত্রী’ অভিধাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্ব দেন ৪১ বছর। তিনি পাঁচবারের সংসদ সদস্য, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী এবং দুইবার বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন।
