মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে মূল্য ওঠানামার কারণে চলতি অর্থবছরের জুন পর্যন্ত তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার খাতে বড় অঙ্কের অতিরিক্ত ভর্তুকির প্রয়োজন হতে পারে বলে সংসদকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মোট প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ভর্তুকির পরিমাণ প্রায় ৪২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বলে তিনি জানান।
মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএনপির সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য উপস্থাপন করেন।
তিনি জানান, চারটি খাতের মধ্যে বিদ্যুতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। এরপর রয়েছে গ্যাস, তেল ও সার খাত।
বিস্তারিত তথ্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, তেল খাতে প্রায় ১০ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা, গ্যাস খাতে ১১ হাজার ১৭০ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ খাতে ১৯ হাজার ৮২১ কোটি টাকা এবং সার খাতে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ কোটি টাকার অতিরিক্ত ভর্তুকি প্রয়োজন হতে পারে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চলমান অস্থিরতার কারণে আমদানি ব্যয়, উৎপাদন ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ, কৃষি, পরিবহন ও শিল্প উৎপাদন খাতে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বিশেষ করে ইরানসহ অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করছে। জ্বালানি ও সার আমদানির ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা এবং আমদানি ব্যালান্সেও চাপ তৈরি হচ্ছে।
তিনি সংসদে উল্লেখ করেন, প্রবাসী আয়ের ওপরও সম্ভাব্য চাপ তৈরি হতে পারে, কারণ মধ্যপ্রাচ্য বাংলাদেশের বড় শ্রমবাজার। দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা হলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ, স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা, বাজারে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা অবলম্বন।
তিনি বলেন, সরকার বিকল্প শ্রমবাজার অনুসন্ধান এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে।
সংসদে দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, বৈশ্বিক পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে খাতভিত্তিক ভর্তুকির চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
